তিউনিসিয়ার একটি আদালত প্রেসিডেন্ট কাইস সাঈদকে উদ্দেশ্য করে ফেসবুকে অপমানজনক মন্তব্য করার দায়ে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। শুক্রবার আসামির আইনজীবী ও একটি মানবাধিকার সংগঠন এ তথ্য জানিয়েছে।
মানবাধিকার কর্মীরা ওই ব্যক্তির নাম সাবের শুশান (৫১) বলে শনাক্ত করেছেন। তার আইনজীবী উসামা বুতেলজা বলেন, শুশানকে ভুয়া তথ্য প্রচার, প্রেসিডেন্ট ও বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে অপমানজনক মন্তব্য এবং উসকানিমূলক পোস্টের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। নাবেউল শহরের আদালত বুধবার এ রায় ঘোষণা করে।
আইনজীবী জানান, এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। তিনি আরও বলেন, জানুয়ারি ২০২৪ সালে তার মক্কেলকে আটক করা হয়েছিল, তবে ফেসবুক পোস্টগুলোর সঠিক বিষয়বস্তু পরিষ্কার নয়।
প্যারিসভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সিআরএলডিএইচটি এ রায়কে ‘গুরুতর নজির’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, তিউনিসিয়া এখন মানবাধিকার লঙ্ঘনের নজিরবিহীন স্তরে পৌঁছেছে। সংগঠনটি শুশানের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে।
তিউনিসিয়ার আইনে বলা আছে—রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তন বা নাগরিকদের অস্ত্রধারণে উসকানি দিয়ে বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা সৃষ্টি করলে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যায়। তবে ১৯৯১ সালের পর থেকে দেশটিতে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি।
২০১৯ সালে কাইস সাঈদ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২১ সালে ব্যাপক ক্ষমতা দখল করেন। এরপর থেকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে আসছে যে দেশটিতে স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত হচ্ছে।