রাকিবুল হাসান, কুড়িগ্ৰাম।।
কুড়িগ্রাম জেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে বদলে যাচ্ছে দীর্ঘদিনের ধু-ধু বালুচরের চিত্র। এখন সেখানে সবুজের সমারোহ। উন্নত কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাড়ির উঠোন, আশপাশের জমি ও বস্তায় আদা চাষসহ শাকসবজি উৎপাদন ও ভেড়া পালন করে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন চরের কৃষকরা।
একসময় ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ধরলা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলে বন্যা-খরায় ফসলহানিই ছিল কৃষকদের নিয়তি। তবে বর্তমানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকরা বেড, মাচা ও বস্তা পদ্ধতিতে আদা ও বিভিন্ন সবজি উৎপাদন করছেন। রাসায়নিক সারের পরিবর্তে ব্যবহার করছেন কেঁচো কম্পোস্ট, যা যেমন পরিবেশবান্ধব তেমনি ফলনও বেশি হচ্ছে।

এ কাজে সহায়তা করছে কৃষি বিভাগসহ বেসরকারি সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটি চিলমারী, রৌমারী ও সদর উপজেলার ২৮টি চরের ৮৪০টি কৃষক পরিবারকে বছরে দুইবার সবজির বীজ, কেঁচো কম্পোস্ট তৈরির সামগ্রী, বস্তায় আদা চাষের উপকরণ এবং ভেড়া প্রদানসহ নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।
সরেজমিনে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চরযাত্রাপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নারী কৃষক মোছাঃ আকলিমা বেগম তার বাড়ির পাশে ৫টি ভেড়াকে ঘাস খাওয়াচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমাকে একটি ভেড়া দেওয়া হয়েছিল। এখন সেটি বেড়ে ৫টি হয়েছে। এখানে ভেড়া পালনের জন্য পরিবেশ খুবই উপযোগী। বছরে দুইবার বাচ্চা দেয়—কখনো ২টি, কখনো ৩টি। বাড়তি খাবারও লাগে না।”
একই গ্রামের নাজমা বেগম জানান, “আগে ফলন কম হতো। এখন প্রশিক্ষণ নিয়ে বেড ও মাচা পদ্ধতিতে চাষ করে ভালো লাভ হচ্ছে। রাসায়নিক সারের জায়গায় কেঁচো কম্পোস্ট ব্যবহার করায় খরচও কমছে।”
ফ্রেন্ডশিপ বাংলাদেশের রিজিওনাল ম্যানেজার কৃষিবিদ মোঃ আশরাফুল ইসলাম মল্লিক বলেন, ফ্রেন্ডশিপ লুক্সেমবার্গের সহায়তায় চরাঞ্চলের ৮৪০টি পরিবারকে কৃষি উন্নয়ন, সু-শাসন ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য চরের পরিবারও এ সুফল পাবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুড়িগ্রামের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, “সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ফ্রেন্ডশিপসহ বিভিন্ন এনজিও উন্নত প্রযুক্তিতে সবজি চাষে সহায়তা করছে। এতে চরের কৃষকরা প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছে ও লাভবান হচ্ছে।”

কুড়িগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, “চরাঞ্চলে ভেড়া পালন অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। খাবারের প্রাচুর্য ও কম রোগব্যাধির কারণে এটি লাভজনক পেশা। ফ্রেন্ডশিপের উদ্যোগে নারীরা ভেড়া পালনে স্বাবলম্বী হচ্ছে। আমরা প্রশিক্ষণ ও ভ্যাকসিনেশন সাপোর্ট দিচ্ছি, ফলে অল্প সময়ে আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।