টেলিগ্রাফ রিপোর্ট:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম শহিদুল ইসলাম। তিনি জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের নস্কার আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত শহিদুল ইসলামসহ ছয়-সাতজন ব্যক্তি শনিবার বিকেলে ভারতে মাদক আনতে গিয়েছিলেন। তাঁরা গয়েশপুর সীমান্তের ৭০ নম্বর মেইন পিলার থেকে প্রায় ২০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। এ সময় মাটিয়ারী ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন তাঁরা।
অন্যদিকে নিহত শহিদুলের স্ত্রী নাসরিন আক্তার দাবি করেছেন, শনিবার বিকেলে তাঁর স্বামী মাধবখালী সীমান্তের দোয়ালের মাঠে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাঁকে আটক করে এবং খুব কাছ থেকে গুলি করে। তাঁর পরিচিতজনদের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে ঘটনাস্থলেই শহিদুল নিহত হয়েছেন।
শহিদুলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই তাঁর গ্রামের বাড়িতে গভীর শোক ও মাতম চলছে।
ঘটনার বিষয়ে বিজিবির মহেশপুর-৫৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল রফিকুল আলম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিএসএফের ৩২ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট সুজিত কুমারের বরাত দিয়ে জানান, প্রথমে বিএসএফ শহিদুল আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছিল। তবে রাত ৮টার দিকে বিএসএফের পক্ষ থেকে বিজিবিকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে শহিদুল নিহত হয়েছেন এবং তাঁর মরদেহ বর্তমানে ভারতীয় পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
উল্লেখ্য, মানবাধিকার সংস্থা অধিকার-এর মতে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বিএসএফের গুলিতে অন্তত ৫৮৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডগুলোর অধিকাংশের ক্ষেত্রেই কোনো বিচার হয়নি।