রাবি প্রতিনিধি ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমান ছাড়াই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বুদ্ধিজীবী চত্বরে রাকসু আয়োজিত ’গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি: সংকটের পথে দেশ’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ আলোচকের বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন তিনি।
ফুয়াদ বলেন, ‘বাংলাদেশ কোনো জাতীয় নেতার অপেক্ষায় ছিল না। ৭১ সালে শেখ মুজিব ছাড়াই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। তেমনি বিএনপির নেতা ছাড়াই ২৪ এ গণ অভ্যুত্থানও হয়েছে।’
এই আইনজীবী বলেন, ‘দেশের মানুষের আজাদীর পক্ষে যে ধারাবাহিকতা চলছে সেখানে দাঁড়িয়ে যারা দেশের নয়া রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরোধীতা করছেন মনে রাখবেন ইতিহাস কাওকে ক্ষমা করে না। আপনারা ইতিহাসের দিকে তাকান। যে মুসলিম লীগ দেশের বৃহত্তম দল ছিল তারাও ৭০ এর জাতীয় নির্বাচনে নাই হয়ে গেছিল। সুতরাং এ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পরিষ্কার। যারা গাদ্দারি করবে তাদের জায়গা ও ইতিহাস পরম্পরায় পূর্বের মতো হবে।’
আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘সংবিধান জপতে জপতে শেখ হাসিনাকে এক কাপড়ে এই বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছে। তাই বিএনপির বন্ধুদের মনে করাতে চাই যে সংবিধানের দোহাই দিয়ে, অজুহাত দিয়ে আমাদেরকে কাঠাল খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন না। এই কাঠাল আমরা বহুবছর গাছে পাকতে দেখেছি, পচতেও দেখেছি। এই সংবিধানের কাঠাল জপতে জপতে ওবায়দুল কাদেররা কলকাতার আইসিইউতে ঘুমাচ্ছে ও আজকে ভারতকে আওয়ামী লীগের তীর্থস্থান বানাতে হয়েছে।’
সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা শিশির মনির বলেন, ‘বিএনপির এমন একদল লোকের হাতে পড়েছে যারা আসলে স্ট্রোকের রোগীদের মতো আচরণ করছে। তাদের আচরণ দেখলে মনে হয় তারা পৃথিবীর গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস জানেনা। অভ্যুত্থানের পরে সংবিধান ও রাষ্ট্র কিভাবে সাজাতে হয় তারা জানে না। সংস্কার কিভাবে করতে হয় সেটিও তাদের জানা নাই। যা আছে গায়ের জোরে, শরীরের গরমে রক্তচক্ষু দেখানো।’
সেমিনারে প্রবন্ধ পাঠ করেন রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক ইমরান লস্কর। সেমিনারে অন্যান্যদের মধ্যে রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ও সিনেট সদস্য ফাহিম রেজা বক্তব্য দেন। এছাড়াও সেমিনারে জামায়াত এবং ইসলামি ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।