1. bdtelegraph24@gmail.com : বিডিটেলিগ্রাফ ডেস্ক :
  2. suma59630@gmail.com : ফাতেমা আকতার তোয়া : ফাতেমা আকতার তোয়া
  3. limonhosen529@gmail.com : Limon Hossain : Limon Hossain
  4. mirzagonj@bdtelegraph24.com : মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি : মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি
  5. tarim7866@gmail.com : তারিম আহমেদ : তারিম আহমেদ
  6. wasifur716@gmail.com : Wasifur Rahaman : Wasifur Rahaman
বছর পেরোলেও হয়নি বুটেক্সের প্রথম সমাবর্তন, হতাশ প্রাক্তনরা - bdtelegraph24.com
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চট্টগ্রামের মানুষ আগে জান্নাতে যাবে: ওয়াজে আতাউল বারীর বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিদ্যুৎ বিল ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ, আলোচনা করলেন সাম্প্রতিক সফর নিয়ে বাঘারপাড়ায় ইউসিবির ‘কিউআর’ বিষয়ক মতবিনিময় সভা খুঁটির সঙ্গে বাঁধা বাবাকে খাওয়ানো সেই শিশুর দায়িত্ব নিল উজিরপুর প্রশাসন সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের প্রতিবাদে গাজীপুর মহানগর বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ইসরায়েলকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র নিজের আধিপত্যই ক্ষয় করছে: গেগরি জে সিমনস টঙ্গীতে গাঁজাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষ্যে শ্যামনগরে র‍্যালি, নদী, খাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান সাজেকে ইউপিডিএফ-জেএসএস সংঘাতে ৭ বছরের শিশু গুলিবিদ্ধ

বছর পেরোলেও হয়নি বুটেক্সের প্রথম সমাবর্তন, হতাশ প্রাক্তনরা

  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২১৭ জন খবরটি পড়েছেন
Butex Campus
File Photo

আলভী আহমেদ, বুটেক্স প্রতিনিধি।

হোয়াটসঅ্যাপে ফলো করুন
Telegraph Bangladesh WHATSAPP Channel

হোয়াটসঅ্যাপে ফলো করুন

দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) প্রথম সমাবর্তন ঘিরে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আগ্রহ এখন রূপ নিয়েছে ক্ষোভে। ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে, এখনো সেই সমাবর্তন হয়নি। এর মধ্যেই মূল সার্টিফিকেট তোলার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দ্বিতীয় সমাবর্তনের ফি নেওয়া শুরু করেছে প্রশাসন, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

প্রতিষ্ঠার এক যুগেরও বেশি সময় পার হলেও দেশের বিশেষায়িত বস্ত্র প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুটেক্সে এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি প্রথম সমাবর্তন। জানা যায়, বুটেক্সে সমাবর্তনের উদ্যোগ প্রথম শুরু হয় দ্বিতীয় উপাচার্য অধ্যাপক মাসউদ আহমদের সময়ে, যা তৃতীয় উপাচার্য অধ্যাপক এম এ কাশেমের সময় গতি পায়। পরে অধ্যাপক ড. শাহ আলিমুজ্জামান দায়িত্ব গ্রহণের পর সমাবর্তন আয়োজনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন আসে এবং ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর প্রথম সমাবর্তনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক পরিবর্তন এবং অন্যান্য অনুমোদনের জটিলতার কারণে অনুষ্ঠানটি স্থগিত হয়ে যায়।

প্রাক্তন প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. ফরহাদ হোসেন বলেন, প্রথম সমাবর্তনের জন্য সমস্ত প্রস্তুতি ছয়-সাত মাস আগেই শুরু করা হয়েছিল। গাউন, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এবং উপহার প্যাকেজের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় ক্রয় সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্দোলনের কারণে অনুষ্ঠানের আয়োজন স্থগিত হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সমাবর্তন না হওয়ার পরও অর্থ আদায় শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, শাহ আলিমুজ্জামান ও বেলালের সময় থেকে মূল সার্টিফিকেট তোলার সময় সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন ফি সহ মোট ৩০১৫ টাকা নেওয়া হয়। গাউনের জন্য ১৫০০ টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হয়, যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভাড়া না নিয়ে পার্মানেন্ট গাউন ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ফলে মোট ফি দাঁড়িয়েছে ৪৫১৫ টাকা। পরবর্তীতে একাধিক ধাপে সমাবর্তনের তারিখ স্থগিত হলে ৪৫-এর পরবর্তী ব্যাচ ৪৬ থেকে শুধুমাত্র রেজিস্ট্রেশন ফি এবং সার্টিফিকেট ফি (মোট ৩০১৫ টাকা) নেওয়া হচ্ছে। শুধুমাত্র সার্টিফিকেট ফি দিয়ে সার্টিফিকেট তুলে নিলে পরবর্তী সমাবর্তন হলে তাদের জন্য অতিরিক্ত পেমেন্ট এবং পুনরায় রেজিস্ট্রেশন করতে হবে, তাই প্রশাসন পূর্বেই ফি আদায় করছে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র গাউনের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করতে পারবে।

৪৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আতিকুর রহমান আতিক বলেন, বুটেক্স প্রশাসনের অদূরদর্শিতা এখন স্পষ্ট। দেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিতভাবে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, অথচ বুটেক্স এখনো প্রথমটি আয়োজন করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, দু’বছর আগে ফি নেওয়া হলেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটেও কোনো ব্যাখ্যা বা হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি—এটি প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা।

৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাকিব হাসান বলেন, সমাবর্তন আয়োজনের কাজ একসময় ভালোই এগোচ্ছিল, কিন্তু উপাচার্য পরিবর্তনের পর সেটি পুরোপুরি স্থবির হয়ে যায়। প্রশাসনের অবস্থান এখন অস্পষ্ট—এতে স্বচ্ছতার অভাব প্রকট হচ্ছে।

বুটেক্সের সাবেক প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. ফরহাদ হোসেন বলেন, ৯ সেপ্টেম্বর সমাবর্তনের তারিখ ঠিক হওয়ার পর আমরা আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করি। গাউন, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও উপহার প্যাকেজসহ সব প্রোকিউরমেন্ট সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু জুলাইয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হলে ইভেন্টটি স্থগিত হয়। গাউনসহ সব সামগ্রী এখনো স্টোররুমে আছে।

তিনি আরও বলেন, এখনকার প্রশাসনই ভালো বলতে পারবে কেন অনুষ্ঠানটি আর হয়নি। হয়তো ইচ্ছাশক্তির অভাব ছিল, অথবা অন্য কোনো প্রশাসনিক কারণে কাজটি থেমে গেছে।

অন্যদিকে প্রাক্তন ও সদ্য স্নাতক শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, প্রথম সমাবর্তনের আয়োজন না করেই এখন দ্বিতীয় সমাবর্তনের নামে অর্থ আদায় শুরু করেছে প্রশাসন।

৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. জিয়াউর রহমান বলেন, যেখানে প্রথম সমাবর্তনের কোনো তারিখই নেই, সেখানে দ্বিতীয় সমাবর্তনের ফি কেন দিতে হবে? এতে প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

একই ব্যাচের ইফতেখার আলম ইভান বলেন, মূল সার্টিফিকেট তুলতে আমাদের নানা ধরনের ফি দিতে হয়। এর সাথে কনভোকেশনের অতিরিক্ত ফি আরোপ করা অন্যায্য। কনভোকেশনের তারিখ অনিশ্চিত থাকলে এই ফি আলাদা করে পরবর্তীতে নেওয়াই যৌক্তিক হতো।

উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মারজানী তুবন নাহার জানান, ২০১৮ সালে তৎকালীন প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয়, শিক্ষার্থীদের মূল সার্টিফিকেট তোলার সময় সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন ফিও একসাথে দিতে হবে। তবে সমাবর্তন বিলম্বিত হওয়ায় প্রভিশনাল সার্টিফিকেটের বদলে এখন মূল সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর প্রথম সমাবর্তনের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়।

তিনি বলেন, সমাবর্তনের জন্য মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়ের শিডিউল প্রচুর ব্যাস্ত থাকায় তাকে এনে সমাবর্তন করতে গেলে অনেক সময় লেগে যাবে। এটাও সমাবর্তন পেছানোর একটা কারন। পরবর্তীতে আমরা শিক্ষা উপদেষ্টাকে দিয়ে সমাবর্তনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। উপদেষ্টা মহোদয় ও মন্ত্রনালয়ের অনুমতি পেলেই সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও যোগ করেন, অনুমতি পেলে এ বছরই প্রথম সমাবর্তন এবং পরের বছর দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজন করা সম্ভব হবে।

প্রথম সমাবর্তনের অনিশ্চয়তা, দীর্ঘ সময় ধরে বিলম্বিত আয়োজন এবং পুনরায় ফি আদায়—এই সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি করেছে। প্রশাসনের আশা, অনুমোদন মিললেই প্রথম সমাবর্তন আয়োজন করা সম্ভব হবে, আর দ্বিতীয় সমাবর্তনের ফি আগেভাগেই নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা পরবর্তীতে কেবল গাউন ফি দিয়ে অংশগ্রহণ করতে পারবে। এই সমন্বয় ও স্বচ্ছতা বাস্তবায়ন করতে পারলে শিক্ষার্থীরা পাবেন দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত গৌরবময় অভিজ্ঞতা, আর বিশ্ববিদ্যালয়ও সমাবর্তনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করবে।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2025
Theme Customized By BreakingNews

টেলিগ্রাফ বাংলাদেশের ইউটিউব চ্যানেল

Close Welcome Bar