যোবায়ের হোসেন জাকির, জাবি প্রতিনিধি | জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক সাংবাদিক শিক্ষার্থীর ওপর হামলা ও হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারী) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছবি চত্বর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ভুক্তভোগী আরিফুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জাবি প্রতিনিধি।
তিনি জানান, গত ৬ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে শহিদ মিনার সংলগ্ন সড়কে সংবাদ সংগ্রহের সময় নিজের পরিচয় নিশ্চিত করার পরও পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ৪৮ ব্যাচের মোহাম্মদ ইমন, দর্শন বিভাগের ৪৮ ব্যাচের মো. সাহানুর রহমান সানজু এবং অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-ছয়জন তাকে ঘিরে ধরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
“ইমন আমার হাত থেকে মোবাইল ফোন জোর করে নিয়ে ফুটেজ দেখতে থাকে। ক্যামেরা (সনি আলফা ৬৪০০) কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ক্যামেরা ও লেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়,” বলেন আরিফুর।
পরে জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিবসহ কয়েকজন ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর সহকারী প্রক্টর আব্দুর রাজ্জাক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মেহেদী মামুনকে বিষয়টি জানান তিনি।
আরিফুরের অভিযোগ, “পরবর্তীতে অভিযুক্তরা বাংলা বিভাগের ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমন বাবুসহ আবারও এসে আমি তাদের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেছি—এ কথা বলে দ্বিতীয়বার আমাকে শারীরিকভাবে হেনস্থা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।”
তিনি বলেন, “ঘটনার দিন আমি পরপর দুইবার আক্রমণের শিকার হই।”
এছাড়া ঘটনার পর অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে তাকে নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
একজন সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এ ধরনের হামলাকে সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত মতপ্রকাশ ও সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতার লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন আরিফুর।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ, কে, এম রাশিদুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, “তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের মধ্যে মোহাম্মদ ইমনকে একাধিক কল দিয়েও পাওয়া যায়নি।
আরেক অভিযুক্ত ইমন বাবু বলেন, আমি গিয়ে দেখি ৫২ আর ৪৮ ব্যাচের মধ্যে কোনো একটা বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কি হচ্ছে। আমি ৪৮ ব্যাচের সাথে খেলাধুলা করছি আর ৫২ তো আমাদের সরাসরি ছোট ভাই। তো মাঝখানে মেলানোর ট্রাই করছিলাম।