আলভী আহমেদ, বুটেক্স প্রতিনিধি
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) শুরু হয়েছে ২০২৪-২০২৫ সেশনের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্লাস। বিডিটেলিগ্রাফের সাক্ষাৎকারে নব্য ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম ক্লাসের নানা ধরণের অভিজ্ঞতা এবং বুটেক্স নিয়ে প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন।
বুটেক্সে ২০২৪-২০২৫ সেশন থেকে চালু হয়েছে টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। বিভাগটির ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আরাফাত আহমেদ খান বলেন, আমার এই বিভাগের ভবিষ্যৎ সুযোগ অনেক বেশি। যেহেতু আমাদের পড়াশোনা ম্যাটেরিয়াল নিয়ে তো জিনিসটা শুধু টেক্সটাইলে সীমাবদ্ধ থাকবে না। যদিও আমরা প্রথম ব্যাচ, আগামী কয়েক বছরে বিভাগটি আরো সমৃদ্ধ হবে বলে আশা করি। প্রথম ব্যাচ হিসেবে আমরা অনেকটা আশাবাদী। ক্যাম্পাসটা মোটামুটি ঘুরে দেখেছি, ক্যাম্পাসের পরিবেশ আমার কাছে ভালো লেগেছে। আলাদাভাবে বললে ল্যাব ফ্যাসিলিটি খুবই ভালো।
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বুশরা তাসনিম প্রিয়ন্তী বলেন, “অনুভূতি অবশ্যই ভালো। আমাদের প্রথম দুইদিন খুব ভালোভাবে ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম দেওয়া হলো। আজকে প্রথম দিন ক্লাস করলাম, সবার সাথে পরিচয় হলো, নতুন একটি অভিজ্ঞতা যা খুবই ভালো লেগেছে। আরেকটা বিষয়ে ভালো লেগেছে যে দেখলাম বুটেক্সের কোন বিভাগীয় পলিটিক্স নেই। বুটেক্সে আসার কারণ ছোট থেকে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছা সেভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং প্রিপারেশন নিই, সবার থেকে শুনেছি বুটেক্সের জব ফিল্ড ভালো, সাত ডিজিট স্যালরি বলে একটা কথা প্রচলিত আছে, বুটেক্স থেকে বের হয়ে সহজেই চাকরি পাওয়া যায়। বুটেক্স থেকে আমার প্রত্যাশা এই যে আমাকে একজন ভালো ইঞ্জিনিয়ারিং হিসেবে গড়ে তুলবে।”
ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫১ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইয়ালিদ ইবনে সোহেল (অর্ক) বলেন, “প্রথম দিন ক্লাস গুলো করলাম খুবই ভালো লাগলো, শিক্ষকরা খুবই আন্তরিক। তবে একটু হতাশ ও হই কেননা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিনেই গিয়ে দেখলাম অনেকগুলো ক্লাস ক্যানসেল হয়েছে। মূলত ঢাকায় থাকার উদ্দেশ্য নিয়েই বুটেক্সে আসা। এরমধ্যে ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হই কেননা বিভাগটির সুজোগ সুবিধা বেশি। একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যদিও বুটেক্সের ক্যাম্পাসটি ছোট কিন্তু এই ছোট ক্যাম্পাসে কমিউনিকেশন টা অনেক সহজে হয়। আর বুটেক্স এর কাছে আমার এই প্রত্যাশা যেন ৪ বছরের মধ্যেপড়াশোনা শেষ করতে পারি।”
ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী এইচ এম বখতিয়ার উদ্দিন বলেন, “প্রথমত আমার যেটা মনে হয়েছে যে ইউনিভার্সিটি তে অনেক বেশি নিয়ম কানুন আছে, সবকিছুই একটা নিয়মের মধ্য দিয়ে যায়, পরিবেশ আমার কাছে খুবই শান্ত লেগেছে, আমাদের স্যারদের ও এখন পর্যন্ত খুবই আন্তরিক মনে হচ্ছে অনেক বন্ধুসুলভ আচরণ পাচ্ছি তাদের থেকে। ক্যাম্পাসটাও খুবই সাজানো গোছানো মনে হয়েছে। আমার ব্যক্তিগত ইচ্ছা আমি রিসার্চ নিয়ে কাজ করতে চাই তো আমার প্রত্যাশা আমি বুটেক্স থেকে সেই সুযোগটা পাবো।”
সর্বোপরি প্রথম দিনের শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ছিল ইতিবাচক। শিক্ষার্থীদের প্রশাসনের নিকট প্রত্যাশা একটি রাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাস, সুষ্ঠু পড়ালেখার পরিবেশ এবং সঠিক সময়ে গ্রাজুয়েশন শেষ করে বের হওয়া।