জহুরুল হক, দৌলতপুর থেকে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মেধাবৃত্তি প্রাপ্তদের তিন বছর পেরিয়ে গেলেও বৃত্তিপ্রাপ্তরা বৃত্তিবাবদ কোন অর্থ এখনো পায়নি। সময়মত বৃত্তির অর্থ না পাওয়ায় বিরুপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে পঞ্চম শ্রেণীর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বৃত্তি পেলেও এখন পর্যন্ত তারা সে বৃত্তির টাকা পাননি। আর চারমাস পরে তাদের নির্ধারিত বৃত্তিরপ্রাপ্তের সময়কাল ষষ্ঠ থেকে অস্টম শ্রেণী পেরিয়ে যাবে। এতদিনেও বৃত্তির টাকা না পাওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
দৌলতপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দেয়া তথ্য মতে জানা গেছে, ২০২২ সালে দৌলতপুর উপজেলার ২৮৪টি বিদ্যালয় থেকে মোট ২ হাজার ৩১০ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক পরীক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে মেধা তালিকায় ১০৯ জন ও সাধারণ গ্রেডে ৮৫ জন সহ মোট ১৯৪ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের এপ্রিলে সকল মেধাবৃত্তিপ্রাপ্তদের পিতা/মাতার সাথে সরকারী তপশীলী ব্যাংকে হিসাব খুলতে বলা হয়। সেই মোতাবেক হিসাব খুলে নিজ নিজ শিক্ষ প্রতিষ্ঠানে জমা দিলেও অদ্যাবধি কেউ বৃত্তির অর্থ পাননি। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে অভিভাবকরা বলছেন, দিনের পর দিন ঘুরেও তারা শুধু আশ্বাস পেয়েছেন, কোন সমাধান আসেনি।
ট্যালেন্ট পুলে বৃত্তি পাওয়া আবু ওবাইদুলাহ সিদ্দিক নামে ৮ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি তারাগুনিয়া সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থেকে ২০২২ সালে ট্যালেন্ট পুলে বৃত্তি পেয়েছিলাম। এখন আমি তারাগুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেনিতে পড়ি। এখন পর্যন্ত আমার প্রাপ্য (প্রতিমাসে ৩০০ টাকা হারে) বৃত্তির টাকা পাইনি।
বুলবুল আহমেদ নামে অপর এক অভিভাবক বলেন, টাকা বড় ব্যাপার নয়, কিন্তু জীবনের শুরুতেই এমন অভিজ্ঞতা ওদের মেধা বিকাশে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াতে পারে। সরকারের উচিত দ্রুত এ সমস্যা সমাধান করা।
তহমিনা খাতুন নামে এক অভিভাবক বলেন, আমার মেয়ে কঠোর পরিশ্রম করে বৃত্তি পেয়েছিল। কিন্তু আজও সেই পরিশ্রমের স্বীকৃতি মিলেনি। এর ফলে সে মনোবল হারিয়ে ফেলছে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ জানান,আমি সদ্য যোগদান করেছি। তবে, যতদূর জানি, যাচাই-বাছাই শেষে গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। অর্থ ছাড় সংক্রান্ত বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর দেখছে। শুধু দৌলতপুর নয়, সারা দেশের বিভিন্ন জায়গাতেই একই ধরনের সমস্যা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
দৌলতপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপার ভাইজার কামাল হোসেন বলেন, বৃত্তি প্রাপ্তদের যে টাকা দেওয়া হয়, তা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের হাতে কিছুনা। এগুলো শিক্ষার্থী যে সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে তারা দেখভাল করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে দৌলতপুর পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলাম জানান, বৃত্তির কাগজ পত্রসহ ব্যাংক হিসাব নম্বর চাহিদা মোতাবেক আমরা যথা সময়ে প্রেরণ করেছি। এখন পর্যন্ত তাদের বৃত্তির টাকা আসেনি। তবে, কেন বা কি কারণে আসেনি তা আমাদের জানা নেই।
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবু তৈয়ব মোঃ ইউনুস আলীর নিকট জানতে চাইলে তিনিও এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারেন নি। তবে, এ বিষয়ে অধিদপ্তরে খোঁজ নিবেন বলে তিনি জানিয়েছেন ।