ফরিদ আহমেদ , নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে প্রস্তাবিত নিয়োগবিধি-২০২৪ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নবীনগর উপজেলায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মীরা কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নবীনগর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘটে অংশ নেন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক এবং পরিবার কল্যাণ সহকারীরা।
এসময় বক্তব্য রাখেন- উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক সমিতির সভাপতি ও পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক সৈয়দ কেফায়েত উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সুমানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হুমায়ূন কবির, উপজেলা কার্যালয়ের পরিদর্শিকা সুলতানা রাজিয়া, পরিবার কল্যাণ সহকারী ও নিয়োগ বিধি বাস্তবায়ন কমিটি উপজেলা শাখার আহবায়ক খাদিজা বেগম, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের পরিবার কল্যাণ সহকারী মাহমুদা আক্তারসহ আরো অনেকে।
বক্তারা বলেন, তারা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মূল চাবিকাঠি হিসেবে বহু বছর ধরে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, কমিউনিটি ক্লিনিক পরিচালনা, গর্ভকালীন নিরাপদ প্রসব সেবা, নবজাতক ও প্রসবোত্তর সেবা, কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং টিকাদানসহ মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ঘরে ঘরে সেবা দিয়ে আসছেন। এতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও এখনো তাদের স্থায়ী কোনো নিয়োগবিধি নেই, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। তাদের দাবি, ২০২৪ সালের প্রস্তাবিত নিয়োগবিধি কর্মচারীদের ন্যায্য ও মৌলিক অধিকার। এটি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে ১১ ডিসেম্বরের পর আরো বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এসময় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সুমানুর রহমান বলেন, আমাদের চাকুরীর অধিকার স্বচ্ছ নিয়োগবিধি। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মূল চালিকাশক্তি আমরা। সাড়ে ২৩ হাজার পরিবার কল্যাণ সহকারী, সাড়ে ৪ হাজার পরিদর্শক ও ৫ হাজার পরিদর্শিকা একসঙ্গে দেশের জন্মনিয়ন্ত্রণ, নবজাতক সেবা, শিশু মৃত্যুরোধসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত থেকেও আজও মূল্যায়িত নই। ২৬ বছরেও আমাদের নিয়োগবিধি হয়নি, পদোন্নতিও নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘করোনা ভ্যাকসিন, জরায়ু মুখ ক্যান্সার ভ্যাকসিন, টাইফয়েড জ্বরের টিকা, পোলিও নির্মূল কার্যক্রম, ইপিআই- এসব কাজে আমরা ঘরে ঘরে গিয়ে সেবা দিয়েছি। ট্যাবের মাধ্যমে অনলাইনে রিপোর্ট দিচ্ছি। আমাদের নিয়োগবিধি না হওয়া পর্যন্ত আমরা কর্মবিরতি অব্যাহত রাখব।
উল্লেখ্য, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির আলোকে, কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচিতে নবীনগর উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে।