দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
মামুন মুন্সী, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা।
সংবাদ প্রকাশের পর দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে ক্যানসার আক্রান্ত দিনমজুর মো. আলাউদ্দিনের বাড়িতে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অরুপ তরন সিংহ। তিনি সরেজমিনে রোগীর খোঁজখবর নেন, পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং শীতবস্ত্র প্রদান করেন। পাশাপাশি চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে দ্রুত আবেদন করার পরামর্শ দেন এবং উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। এ সময় তিনি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের অসহায় এই দিনমজুরের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
এর আগে প্রকাশিত সংবাদ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় গলায় ছোট একটি ফোঁড়া থেকে মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন দিনমজুর মো. আলাউদ্দিন। চরম দারিদ্র্যের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে না পেরে বর্তমানে তিনি শয্যাশায়ী। অসহনীয় যন্ত্রণায় দিন-রাত পার করছেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম এই মানুষটি।
আক্রান্ত আলাউদ্দিন দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। নিজের কোনো জমিজমা নেই। চাচার সামান্য জমিতে নির্মিত একটি একচালা খুপড়ি ঘরে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। পাঁচ সন্তানের জনক আলাউদ্দিনের দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে অনেক আগেই, আর তিন ছেলে বিভিন্ন স্থানে দিনমজুরের কাজ করে পরিবারের হাল ধরার চেষ্টা করছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক বছর আগে আলাউদ্দিনের গলায় একটি ছোট ফোঁড়া দেখা দেয়। প্রাথমিকভাবে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়া হলেও কোনো উন্নতি হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফোঁড়াটি বড় টিউমারে রূপ নেয়। একপর্যায়ে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা গলায় ক্যানসার শনাক্ত করেন। দ্রুত উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হলেও বিপুল অর্থের অভাবে চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে গত তিন মাস ধরে কোনো চিকিৎসা ছাড়াই ঘরের এক কোণে পড়ে আছেন আলাউদ্দিন। গলার ক্ষত থেকে প্রতিনিয়ত দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ ও রক্ত ঝরছে। ঠিকমতো কথা বলতে কিংবা খাবার গ্রহণ করতেও পারছেন না। স্ত্রী ও সন্তানদের চোখের সামনে ধীরে ধীরে নিভে যাচ্ছে পরিবারের আশার প্রদীপ।
আলাউদ্দিনের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন বলেন, আমার স্বামী সারাজীবন কষ্ট করে সংসার চালিয়েছেন। আজ তিনি মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন, কিন্তু আমরা কিছুই করতে পারছি না। সবার কাছে আকুল আবেদন, কেউ যদি একটু সাহায্য করেন।
এলাকাবাসীরাও জানান, সময়মতো চিকিৎসা সহায়তা পেলে আলাউদ্দিনের জীবন বাঁচানো সম্ভব হতে পারে। কিন্তু চরম অর্থাভাবে সেই সম্ভাবনাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সরকারি-বেসরকারি সহায়তা এবং সমাজের হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতায় হয়তো মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে আবার নতুন করে বেঁচে উঠতে পারবেন অসহায় এই দিনমজুর।