দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
নিজস্ব প্রতিনিধি।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ডাক্তার আনিছুর রহমানের মালিকানাধীন আনিকা প্রাইভেট ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করেছে প্রশাসন। সিভিল সার্জনের নির্দেশে রবিবার (১১ জানুয়ারি) বেলা ১টার সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করেন। এবং আনিকা ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরিয়ে নেয়া হয়।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জিয়াউর রহমান, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ তরিকুল ইসলাম, শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া আগের দিন উক্ত ক্লিনিকে মৃত্যু হওয়া রোগী সালেহা বেগমের মৃতদেহ উদ্ধারের পর মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ। এঘটনায় প্রাথমিকভাবে শ্যামনগর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জিয়াউর রহমান জানান, বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ইতিপূর্বে ডাঃ আনিছুর রহমানের পিতার মালিকানাধীন আনিকা ক্লিনিক সিলগালা করা হয়েছিল। কাগজপত্র সংশোধন না করেই পুনরায় বেশকিছু দিন ধরে উক্ত ক্লিনিক পরিচালনা করছিলেন কতৃপক্ষ। একদিন আগে বিষপানের পর এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সিভিল সার্জন উক্ত ক্লিনিক সিলগালা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান সিলগালা করার সময় সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে অপর এক রোগীকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দালাল দিয়ে ভাগিয়ে নিজস্ব ক্লিনিকে নেয়াসহ স্বজনদের উপর হামলার ঘটনায় উক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলছে।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমান জানান শনিবার রাত ১১টার দিকে কৈখালী এলাকা থেকে গৃহবধু সালেহা বেগমের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। রোববার সকালে ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এঘটনায় প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকালের দিকে উপজেলার ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামের ফারুক হোসেনের স্ত্রী সালেহা বেগম(৩০) কীটনাশক পান করে। স্বজনরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলেও দালালরা তাদের ফুসলিয়ে রোগীকে পাশের আনিকা ক্লিনিকে নেয়। একপর্যায়ে পাকস্থলী ওয়াশের পর রোববার বিকালে ঐ গৃহবধুর মৃত্যু হয়।
এসময় উত্তেজিত স্বজনসহ এলাকাবাসীর রোশানল থেকে রক্ষা পেতে উক্ত ক্লিনিকের মালিক ডাঃ আনিছুর রহমান আইসিইউতে নেয়া হবে জানিয়ে এ্যাম্বেুলেন্স যোগে রোগীর মৃতদেহ নিয়ে ক্লিনিক ছেড়ে সাতক্ষীরা চলে যান।