নওগাঁ প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
নওগাঁ জেলায় নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। শীতকালীন এই ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
শুক্রবার জেনেভা থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, মৃত ওই নারী অসুস্থ হওয়ার আগে কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন। তবে এই সংক্রমণ বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে মহামারির আকার ধারণ করার ঝুঁকি ‘নিম্ন’ পর্যায়ে রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছে সংস্থাটি।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী ওই নারীর শরীরে গত ২১ জানুয়ারি তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয়। গত ২৯ জানুয়ারি ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় তাঁর শরীরে নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। এর কিছুদিনের মধ্যেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু ঘটে।
বাংলাদেশে এই সংক্রমণের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও সম্প্রতি দুজনের শরীরে নিপাহ ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এর ফলে দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় বিশেষ স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। এই খবরের পর চীনসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কিছু দেশ তাদের বিমানবন্দরে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ নজরদারি এবং পরীক্ষা বৃদ্ধি করেছে। তবে এই মুহূর্তে কোনো দেশ বা অঞ্চলের ওপর ভ্রমণ বা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রয়োজন নেই বলে তিনি মনে করেন।
বাংলাদেশে সাধারণত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাসের মৌসুম চলে। নিপাহ একটি ‘জুনোটিক’ ভাইরাস যা প্রাণী (প্রধানত বাদুড়) থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। বাদুড় যখন খেজুরের হাঁড়ি থেকে রস খাওয়ার চেষ্টা করে, তখন তাদের লালা বা মলের মাধ্যমে রসে ভাইরাস মিশে যায়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, নিপাহ ভাইরাসে মৃত্যুর হার অত্যন্ত উদ্বেগজনক—প্রায় ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ। এর কোনো কার্যকর ওষুধ বা ভ্যাকসিন নেই। তাই কোনো অবস্থাতেই কাঁচা খেজুরের রস পান না করা এবং পাখির খাওয়া ফল বর্জন করার জন্য সাধারণ মানুষকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।