বাংলাদেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধে কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে সরকার। প্রস্তাবিত নতুন শিক্ষা আইনে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন প্রশাসন বা পাঠদান কার্যক্রমে সভাপতি বা কমিটির সদস্যরা কোনোভাবেই হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট কমিটি বাতিল বা সভাপতিকে পদ থেকে অপসারণের ক্ষমতা রাখা হয়েছে কর্তৃপক্ষের হাতে।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে সম্প্রতি ‘শিক্ষা আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মোট ১১টি অধ্যায় এবং ৫৫টি ধারায় বিন্যস্ত এই খসড়া আইনে মূলত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা দূর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
খসড়া আইনের ২৩ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো পরিচালনা পর্ষদ বা এর সভাপতি যদি নির্ধারিত এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের কাজে হস্তক্ষেপ করেন এবং তার ফলে যদি পাঠদান বাধাগ্রস্ত হয় বা কোনো অনিয়ম ঘটে, তবে এর দায়ভার ওই কমিটি বা সভাপতিকে ব্যক্তিগতভাবে নিতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার চাইলে ওই কমিটি বিলুপ্ত করতে পারবে।
এছাড়া ২২ ধারায় বলা হয়েছে, দেশের সব ধরনের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্তর অনুযায়ী বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবস্থাপনা কমিটি বা পরিচালনা কমিটি থাকতে হবে। তবে এই কমিটির মেয়াদ, গঠন এবং কার্যপরিধি সরকার নির্ধারিত বিধিমালার মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যমান প্রবিধানমালায় কমিটির কিছু বাধ্যবাধকতা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সভাপতিরা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অতিরিক্ত নাক গলান। এতে শিক্ষকরা প্রায়ই প্রশাসনিক ও পেশাগত বিড়ম্বনার শিকার হন।
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার জানিয়েছেন, শিক্ষাকে আইনি কাঠামোর আওতায় এনে নাগরিকদের অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই এই সমন্বিত আইনের লক্ষ্য।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই খসড়াটির ওপর আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত সাধারণ নাগরিক ও সংশ্লিষ্টরা তাদের মতামত জানাতে পারবেন। opinion_edu_act@moedu.gov.bd এই ঠিকানায় ইমেইল পাঠিয়ে যেকোনো পরামর্শ দেওয়া যাবে। জনমতের ভিত্তিতে খসড়াটি চূড়ান্ত করার পর তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে।