নিজস্ব প্রতিবেদক।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাংলাদেশে গত এক বছরে অন্তত ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন, যাদের মধ্যে অর্ধেকের কাছাকাছি সংখ্যাই স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থী। শনিবার আঁচল ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ২০২৫ সালের এই উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। দেশের ১০০টি জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদপত্রের তথ্যের ভিত্তিতে এই সমীক্ষাটি পরিচালনা করা হয়েছে।
সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, আত্মহননকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬১ শতাংশের বেশি নারী। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত বছর ১৯০ জন স্কুল শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন, যা মোট সংখ্যার ৪৭ শতাংশের বেশি। এছাড়া কলেজ পর্যায়ে ৯২ জন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৭ জন এবং মাদ্রাসার ৪৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি—প্রায় ৬৬ শতাংশ। এই বয়সে মানসিক ও আবেগীয় বিকাশ অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকায় তারা দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলছে।
আঁচল ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ‘হতাশা’ (প্রায় ২৮ শতাংশ) এবং ‘অভিমান’ (২৩ শতাংশ)। এছাড়া একাডেমিক চাপ বা পড়াশোনার বোঝা সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন ৭২ জন শিক্ষার্থী, যাদের বড় অংশই নারী। অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে প্রেমঘটিত জটিলতা, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং যৌন নির্যাতন।
অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাজধানী ঢাকাসহ ঢাকা বিভাগে আত্মহত্যার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে। এই বিভাগে ১১৮ জন শিক্ষার্থী নিজেদের জীবন শেষ করে দিয়েছেন। এরপরেই রয়েছে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগ।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রাণ হারানো ৭৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে অধিকাংশ (৪৪ জন) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে, প্রাথমিক পর্যায়ের অর্থাৎ ১ থেকে ১২ বছর বয়সী ৪৪ জন শিশুও গত বছর আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে, যা সমাজ ও পরিবারের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা এই সংকট মোকাবিলায় বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপের সুপারিশ করেছেন। আঁচল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে পাঁচটি প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে—প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির কর্মসূচি গ্রহণ করা।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের ডা. আনিস আহমেদ ও আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট তানসেন রোজসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা এই ক্রমবর্ধমান মানসিক স্বাস্থ্য সংকটকে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ হিসেবে গণ্য করার আহ্বান জানান।