ডেস্ক নিউজ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) অধীন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনের অর্থ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হলেও বিল সাবমিটের ধীরগতির কারণে তা বিলম্বিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকদের তথ্যগত ত্রুটির কারণে বেতন শিট জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। এ কারণে এখনো অনেক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় বিল সাবমিট করা হয়নি।
মাউশির এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেলের এক কর্মকর্তা সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনের জন্য ১ হাজার ৩৩৫ জন শিক্ষক বিল সাবমিট করেননি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষকরা দ্রুত বিল জমা দিলে বেতন ছাড়ের প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, “শিক্ষকরা খুব ধীরগতিতে বিল সাবমিট করছেন। তারা দ্রুত আবেদন করলে আমরাও দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ করতে পারব এবং তারা সময়মতো বেতন পেতে পারবেন।”
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনের প্রস্তাব ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় (বাংলাদেশ)-এ পাঠানো হয়েছে।
এর আগে অধিদপ্তরের এক নির্দেশনায় বলা হয়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ইএফটি পদ্ধতিতে সরাসরি তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হচ্ছে। জুলাই মাস পর্যন্ত এই পদ্ধতিতে নিয়মিত বেতন পাঠানো হয়েছে।
পরে আগস্ট মাস থেকে এমপিও অর্থ ইএফটির মাধ্যমে পাঠানোর ক্ষেত্রে নতুন একটি অনলাইন ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়, যেখানে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত জনবলের বিল সাবমিট করার প্রক্রিয়া চালু করা হয়।
এই ব্যবস্থার আওতায় প্রতিষ্ঠান প্রধানরা শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ব্যাংক হিসাবসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে জমা দেন। এরপর তথ্যগুলো আইবাস ডাবল প্লাস সিস্টেমের মাধ্যমে যাচাই করা হয়।
যেসব শিক্ষক বা কর্মচারীর তথ্য আগে অবৈধ (ইনভ্যালিড) হিসেবে শনাক্ত হয়েছিল কিন্তু পরে তা সংশোধন করা হয়েছে, তাদের বকেয়া বেতন দেওয়ার জন্য বিল সাবমিট অপশনও যুক্ত করা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা তাদের এমপিও সংক্রান্ত আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ইএমআইএস সিস্টেমের এমপিও-ইএফটি মডিউলে লগইন করে বকেয়া মাসের বিল আলাদাভাবে সাবমিট করবেন। জমা দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া অর্থ পাঠানো হবে।
অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, ইএফটি চালুর পর কেউ যদি অনলাইন এমপিও আবেদনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে বেতন পেয়ে থাকেন, তবে বকেয়া বিল সাবমিট করার সময় তাদের ক্ষেত্রে ‘পেমেন্ট নেই’ অপশন নির্বাচন করতে হবে।