ডেস্ক নিউজ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
গরম পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়তে থাকে এবং অনেকেই এ থেকে বাঁচতে রাসায়নিক স্প্রে বা কয়েল ব্যবহার করেন। তবে এসব রাসায়নিক সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক উপায়ে কিছু গাছ ঘরে রাখলে মশা-মাছি দূরে রাখা সম্ভব।
প্রাকৃতিক উপায়ে মশা দূরে রাখতে ঘরে কিছু নির্দিষ্ট গাছ রাখা সহজ ও নিরাপদ একটি পদ্ধতি। এসব গাছ শুধু মশা তাড়াতেই সাহায্য করে না, ঘরের পরিবেশও সতেজ রাখে এবং মানসিক প্রশান্তি দেয়।
এর মধ্যে অন্যতম হলো Tulsi গাছ। তুলসীতে থাকা ইউজিনল ও এস্ট্রাগোল নামের উপাদান মশা দূরে রাখতে সাহায্য করে। জানালা বা দরজার কাছে রোদ পড়ে এমন জায়গায় তুলসি রাখলে ঘরে মশার প্রবেশ কমে যায়।
মশা তাড়ানোর ক্ষেত্রে জনপ্রিয় আরেকটি গাছ হলো লেমন গ্রাস (Lemongrass)। এতে থাকা সিট্রোনেলা তেল মশা দূরে রাখতে কার্যকর। বারান্দা বা ঘরের কোণে রাখলে এর সুগন্ধ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং মশা কাছে আসে না।
এছাড়া Mint বা পুদিনা গাছের মেন্থলযুক্ত গন্ধ মশা ও মাছি অপছন্দ করে। ছোট টবে লাগিয়ে জানালার পাশে রাখলে ভালো ফল পাওয়া যায়। পুদিনা ঘরের পরিবেশ সতেজ রাখার পাশাপাশি খাবার ও পানীয়তেও ব্যবহার করা যায়।
Lavender গাছ তার সুগন্ধের জন্য পরিচিত হলেও এই গন্ধ মশার কাছে অপছন্দনীয়। এতে থাকা লিনালুল উপাদান মশা দূরে রাখতে সাহায্য করে এবং একই সঙ্গে ঘুম ভালো করা ও মানসিক চাপ কমাতেও সহায়ক।
এছাড়া ম্যারিগোল্ড( Marigold) ফুলে থাকা পাইরেথ্রাম নামের উপাদান মশা ও মাছিকে দূরে রাখে। জানালা, দরজা বা বারান্দায় গাঁদা ফুলের টব রাখলে পোকামাকড়ের প্রবেশ কমে যায়।
আরেকটি কার্যকর গাছ হলো রোজমেরী (Rosemary)। এতে থাকা ক্যামফর ও রোজমারিনিক অ্যাসিড মশার জন্য বিরক্তিকর। এই গাছ ঘরে বা বাগানে লাগানো যায় এবং রান্নায়ও ব্যবহার করা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাসায়নিক ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক গাছ ব্যবহার করলে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি কম থাকে। এসব গাছ বাতাস পরিশোধন করে এবং ঘরের ভেতরে সতেজ পরিবেশ তৈরি করে। গাছগুলো এমন জায়গায় রাখতে হবে যেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পায়, বিশেষ করে জানালা, দরজা বা বারান্দার কাছে রাখলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়।
সূত্র: গার্ডেন ডিজাইন, এইচজিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া।