রুশাইদ আহমেদ, বেরোবি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে “প্রত্ন-নিদর্শনী ও ঐতিহ্য উৎসব ২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (০৬ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া চত্বরে এই আয়োজন করা হয়।
দিনাজপুরের কান্তজীর মন্দির, ঢাকার লালবাগ কেল্লা, নওগাঁর কুসুম্বা মসজিদ চাঁপাইনবাবগঞ্জের গৌড় নগরীর মতো ঐতিহাসিক নানা স্থাপনার প্রতিরূপ ও ইতিহাস তুলে ধরা হয় সেখানে। এ ছাড়া রংপুর অঞ্চলের নানা ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পোশাকও প্রদর্শিত হয় এই উৎসবে। সোমবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী দিনব্যাপী এই উৎসবের উদ্বোধন করেন।
আয়োজনটি নিয়ে প্রত্ন-প্রদর্শনী ও ঐতিহ্য উৎসব আয়োজক কমিটির সদস্যরা বলেন, বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য বর্তমান প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার সঙ্গে সঙ্গে তাদের কাছে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার দর্শনার্থীরা এ আয়োজনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেবেন বলেও প্রত্যাশা করেন তাঁরা।
প্রদর্শনীর একটি স্টলে দায়িত্বে থাকা ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ১৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মায়া আক্তার বলেন, এই আয়োজনের লক্ষ্য শুধু জানা নয়, ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করা। ইতিহাসকে দেখা। নতুন প্রজন্ম এ সম্পর্কে জেনে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো সংরক্ষণে তৎপর হবে এই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
দর্শনার্থী ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সিয়াম আহমেদ বলেন, এই শিক্ষণীয় আয়োজনে এসে খুবই সুন্দর লাগছে সবকিছু। এখানকার প্রতিটি স্টলে ঘুরে নতুন নতুন বিষয় জানতে পারছি। অজানা দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রদর্শনীতে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিয়ামুন নাহার নিমা বলেন, রংপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের প্রত্ন নিদর্শন নিয়ে এই আয়োজনটা অনেক সুন্দর হয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন পোশাকের ঐতিহ্যও এখানে তুলে ধরা হচ্ছে। আমাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবনের জন্য এ ধরনের আয়োজন খুবই জরুরি।
প্রদর্শনীর আয়োজক কমিটির তত্ত্বাবধানে থাকা ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সোহাগ আলী বলেন, মূলত ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের গ্রন্থগত পাঠকে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করতেই আমাদের এই আয়োজন। সকল শিক্ষার্থীরা আমাদের এতে সহায়তা করেছেন। এর মাধ্যমে সকলেই দেশের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ে নতুন আঙ্গিকের বিষয় জানতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি।