1. bdtelegraph24@gmail.com : বিডিটেলিগ্রাফ ডেস্ক :
  2. suma59630@gmail.com : ফাতেমা আকতার তোয়া : ফাতেমা আকতার তোয়া
  3. limonhosen529@gmail.com : Limon Hossain : Limon Hossain
  4. mirzagonj@bdtelegraph24.com : মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি : মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি
  5. tarim7866@gmail.com : তারিম আহমেদ : তারিম আহমেদ
  6. wasifur716@gmail.com : Wasifur Rahaman : Wasifur Rahaman
জাবির শৌচাগারগুলোর বেহাল দশা, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী - bdtelegraph24.com
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
লোহাগাড়ায় রাতের আঁধারে পাহাড় কেটে মাটি পাচার, অতিষ্ঠ এলাকাবাসী চট্টগ্রামের মানুষ আগে জান্নাতে যাবে: ওয়াজে আতাউল বারীর বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিদ্যুৎ বিল ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ, আলোচনা করলেন সাম্প্রতিক সফর নিয়ে বাঘারপাড়ায় ইউসিবির ‘কিউআর’ বিষয়ক মতবিনিময় সভা খুঁটির সঙ্গে বাঁধা বাবাকে খাওয়ানো সেই শিশুর দায়িত্ব নিল উজিরপুর প্রশাসন সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের প্রতিবাদে গাজীপুর মহানগর বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ইসরায়েলকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র নিজের আধিপত্যই ক্ষয় করছে: গেগরি জে সিমনস টঙ্গীতে গাঁজাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষ্যে শ্যামনগরে র‍্যালি, নদী, খাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান

জাবির শৌচাগারগুলোর বেহাল দশা, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী

  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২০৯ জন খবরটি পড়েছেন

যোবায়ের হোসেন জাকির, জাবি প্রতিনিধি।

হোয়াটসঅ্যাপে ফলো করুন
Telegraph Bangladesh WHATSAPP Channel

হোয়াটসঅ্যাপে ফলো করুন

দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।

রাজধানী ঢাকার অদূরে সাভারের পার্শ্ববর্তী গেরুয়া-ইসলামনগর এলাকায় সবুজের সমারোহে গড়ে উঠেছে একটি বিশ্ববিদ্যালয়। যেখানে নাগরিক সুবিধা সন্তোষজনক হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষে অবস্থান করছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। তাই, এখানে প্রতিবছর সব থেকে বেশি সংখ্যক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শিক্ষার মান, গবেষণা, আবাসন, পরিবহন, যোগাযোগসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়টির শৌচাগারগুলোতে অপর্যাপ্ত স্যানিটাইজেশন ব্যবস্থা যেন সবকিছুকে মলিন করে দেয়। বলছিলাম ৬৯৭.৯৬ একর জায়গা জুড়ে গড়ে ওঠা দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, বিভিন্ন দফতর, আবাসিক হল, কেন্দ্রীয় স্থাপনাগুলোর শৌচাগারে স্যানিটাইজেশন ব্যবস্থার দূরাবস্থা বলে দেয় বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রায় বারো হাজার শিক্ষার্থী অবস্থান করছে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। শৌচাগারগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানার নেই কোন বালাই। প্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত না হওয়ায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশটি আবাসিক হল ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ হলের শৌচাগারই অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পড়ে আছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের যেন কোন বালাই নেই। হল কর্তৃপক্ষ থেকে সাবান, টিস্যূ, লিকুইড বা অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহের কোন ব্যবস্থা নেই। এমনকি শৌচাগারগুলোতে টিস্যূ বা ময়লা ফেলার জন্য কোন ঝুড়িও নেই। শিক্ষার্থীরা নিজস্ব উদ্যোগে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করছে এসব সামগ্রী। তবে যত্রতত্র টিস্যু ও অন্যান্য ময়লা পরে আছে মেঝেতে।

বেশ কয়েকটি আবাসিক হলে একাধিক পানির ট্যাপ ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। কোন কোন বেসিনে খাবারের অবশিষ্টাংশ এবং অন্যান্য ময়লা জমে ব্লক হয়ে আছে। পানি নিষ্কাশনের নেই কোন সুব্যবস্থা। এতে করে ছড়িয়ে পড়ছে জীবানু। সেইসাথে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চারদিকে। ফলে অস্বাস্থ্যকর ও স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে আবাসিক হলগুলোতে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব সলিমুল্লাহ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সাজেদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের হলটা সুন্দর হলেও এখানকার ওয়াশরুমগুলোর অত্যন্ত বাজে অবস্থা। বেসিনগুলোতে খাবার পরে থাকে। পরিচ্ছন্নতার অভাবে দুর্গন্ধ ছড়ায়। নিয়মিত ওয়াশরুমগুলো পরিষ্কার করা হয় না। নূন্যতম সাবান, টিস্যু পেপার পর্যন্ত সরবারাহের ব্যবস্থা নেই।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের হলটা নতুন। তবুও অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বেশকিছু ওয়াশরুমের অত্যন্ত নাজুক অবস্থা। এটা আসলে দুঃখজনক। নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হলে আর বেসিক ইকুইপমেন্টটুকু সরবারাহ করা হলে এই সমস্যাগুলো সমাধান হবে আশা করি।”

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের হলগুলোতে খোঁজ নিলেও একই চিত্র ফুটে ওঠে। সেখানকার শৌচাগারগুলোতেও স্যানিটাইজেশনের কোন ব্যবস্থা নেই। নূন্যতম সাবান, টিস্যু বা লিকুইডও রাখা হয়নি। বেশ কিছু হলে টিস্যূ, স্যানিটারি ন্যাপকিন বা শ্যাম্পুর অবশিষ্টাংশ ফেলার জন্য পর্যাপ্ত ঝুড়ি বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকার তথ্যও পাওয়া যায়নি।

শৌচাগারগুলো নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা হয়না বলেও অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। যত্রতত্র ময়লা পড়ে থাকার কথা শোনা যায়। কিছু কিছু শৌচাগারের ফ্ল্যাশ এমনকি পানির ট্যাপও নষ্ট থাকার তথ্য পাওয়া যায়। এধরনের সমস্যায় ছড়িয়ে পড়ছে দূর্গন্ধ ও জীবাণু। সুষ্ঠু পরিকল্পনা না থাকায় এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত হচ্ছে না রোগজীবাণুতে, এমনিই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সুফিয়া কামাল হলের প্রাধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সুসমন্বিত মাস্টারপ্ল্যানের অভাব রয়েছে। ফলে বেশিরভাগ কাজই পরিকল্পনাহীনভাবে সম্পন্ন হয়। আমার হলের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা বিদ্যমান। দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি তিনবার সেফটি ট্যাংক পরিষ্কার করিয়েছি, তবুও বাথরুমে পানি জমে থাকার সমস্যা রয়ে গেছে।”

তিনি বলেন, “আমার হলে স্যানিটাইজেশনেরও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এতে করে শিক্ষার্থীদের রোগজীবাণুতে আক্রান্ত হওয়ার প্রবনতা বাড়ছে। কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও দীর্ঘমেয়াদি কোনো কার্যকর সমাধান নেওয়া হয় না।”

তিনি আরও বলেন, “শুধু প্রশাসনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, শিক্ষার্থীদেরও সচেতন হতে হবে। দুঃখজনকভাবে অনেক শিক্ষার্থীই এ বিষয়ে উদাসীন। অনেকেই ফ্লাশ ব্যবহার করেন না, ফলে সমস্যাগুলো আরও প্রকট হয়ে ওঠে। সচেতনতা তৈরির জন্যও কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে।”

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন ডেইরি গেইটের পাশে কয়েকটি শৌচাগার আছে। তবে জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীদের তুলনায় বহিরাগতরাই এই শৌচাগারগুলোর প্রধান ব্যবহারকারী। এতে করে এগুলো পরে আছে অত্যন্ত নাজুক ও বেহাল দশায়। এখানে নেই কোন হ্যান্ড স্যানিটাইজার, নেই সাবান, টিস্যূর ব্যবস্থা। এমনি এখানে পানি সরবারাহেরও নেই কোন সুযোগ সুবিধা। এর ফলে জরুরি মুহূর্তে এই শৌচাগারগুলোর ব্যবহারকারীদের পড়তে হয় বিব্রতকর অবস্থায়।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটক সংলগ্ন কেন্দ্রীয় মাঠ বা এর আশেপাশে তেমন কোন শৌচাগার সুবিধা না থাকলেও পাশেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে একটি শৌচাগার থাকলেও শুধুমাত্র নামাজের সময়েই তা উন্মুক্ত থাকে। তবে সরেজমিনে দেখা যায়, সেখানেও নেই পর্যাপ্ত ইকুইপমেন্ট। একটা সময় মসজিদের ওযুখানাতে সাবান টিস্যূর ব্যবস্থা থাকলেও এখন তা আর চোখে পড়ে না।

সবচেয়ে বেশি বেহাল অবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) শৌচাগারগুলোতে। এখানে নারী ও পুরুষদের আলাদা তিনটা শৌচাগারের ব্যবস্থা আছে। তবে এগুলো সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই শৌচাগারগুলোতে দুর্গন্ধ ও নোংরা এতটা পরিমানে প্রকট আকার ধারন করেছে যে শিক্ষার্থীরা জরুরি প্রয়োজনে নিরুপায় হয়ে এগুলো ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চ এবং কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বছরের প্রায় সময়ই নানা অনুষ্ঠান ও অন্যান্য আয়োজন লেগেই থাকে। তাই এই এলাকায় জনসমাগম বেশি হওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে তারা টিএসসির শৌচাগারগুলোই ব্যবহার করে থাকেন। চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত পরিমানে ব্যবহৃত হওয়ায় এগুলোর বেহাল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “এ ধরনের অবস্থা নিঃসন্দেহে শিক্ষার্থীদের জন্য অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। এই সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এসব শৌচাগারগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার দুইটাই জরুরি। এগুলো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি তুলে ধরে।”

আবাসিক হলগুলোতে শৌচাগারগুলোতে পর্যাপ্ত স্যানিটাইজেশন ব্যবস্থা না থাকা এবং এগুলোর বেহাল দশার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের সচেতনতা যেমন জরুরি, তেমনি হলগুলোতে পর্যাপ্ত জনবলও নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে বাৎসরিক যে ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা দিয়ে সব ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ করা কঠিন। এই বাজেট বৃদ্ধি করা জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, “শুধু ওয়াশরুম নয়, ফ্লোর, বেসিনসহ আশপাশের জায়গাগুলোও নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। এসব স্থান থেকেই জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ও ডিপার্টমেন্টগুলোতে খোঁজ নিলে একই অবস্থা পরিলক্ষিত হয়। নতুন কলা অনুষদে সরেজমিনে দেখা যায়, চারটি ফ্লোরে মোট তিনটি আলাদা শৌচাগার আছে। দ্বিতীয় তলায় নারীদের ব্যবহারের জন্য এবং প্রথম ও তৃতীয় তলার শৌচাগার ছেলেদের ব্যবহারের জন্য। ছেলেদের ব্যবহৃত শৌচাগারগুলোতে সবচেয়ে বেহাল লক্ষ্য করা যায়।

এখানে বেশিরভাগ বেসিন ব্যবহারের অনুপযোগী। পানির ট্যাপ অপর্যাপ্ত এবং অধিকাংশই ভাঙাচোরা। পানির ট্যাপগুলো অপরিকল্পিতভাবে লাগানো হয়েছে তা স্পষ্ট বোঝা যায়। কোনটি বেশি উপরে আবার কোনটি একদম নিচে। উপরে লাগানো পানির ট্যাপগুলোতে পানি ছাড়লে তা নিচে পরে পানির ঝটকা গায়ে লেগে যাচ্ছে।

নূন্যতম কোন ইকুইপমেন্ট, সাবান, টিস্যুর নেই কোন ব্যবস্থা। শিক্ষার্থীদের নিজেদের সরবরাহকৃত টিস্যূ বা অন্যান্য ময়লা ফেলার জন্য কোন ঝুড়িরও ব্যবস্থা নেই। নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন না করায় দুর্গন্ধে ভিতরে বেশিক্ষণ থাকার সুযোগ নেই বললেই চলে। যার ফলে অনেককেই শৌচকর্ম না করেই ফিরে যেতে দেখা যায়। এতে করে ক্লাস করতে আসা শিক্ষার্থীদের পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। সবমিলিয়ে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিক্ষার্থীদের পড়তে হয় রোগজীবাণুতে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান মেডিকেল অফিসার ডা. শামছুর রহমান বলেন, “শৌচাগারগুলোতে যদি পর্যাপ্ত স্যানিটাইজেশন ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে শিক্ষার্থীরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে। সেখানে পর্যাপ্ত সাবান, টিস্যু ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার থাকা অত্যন্ত জরুরি।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ থেকে পানি-বাহিত বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। যেমন: সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, কিডনি জটিলতা এমনকি ‘হেপাটাইটিস বি’ পর্যন্ত হতে পারে।”

নারী শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অনেক সময় অপরিচ্ছন্ন শৌচাগার ব্যবহারে অনীহার কারণে তারা প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও বাথরুম ব্যবহার এড়িয়ে চলেন। এতে দীর্ঘমেয়াদে কিডনিসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে এলাকায় তেমন কোন জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র বা পার্ক না থাকায় ছুটির দিনগুলোতে আশেপাশে থেকে বহিরাগতরা এখানে ঘুরতে আসে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দাপ্তরিক, প্রশাসনিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ নানা কাজে অসংখ্য মানুষ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখানে কোন গণশৌচাগার গড়ে ওঠেনি। তাই বাইরে থেকে ঘুরতে আসা মানুষদের জরুরি প্রয়োজনে পড়তে হয় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তর, অনুষদ, আবাসিক হল ও বিভিন্ন স্থাপনায় অবস্থিত শৌচাগারগুলোই এই বহিরাগত মানুষদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু এগুলোতেও নেই পর্যাপ্ত ইকুইপমেন্ট বা স্যানিটাইজেশন ব্যবস্থা। এতে করে একদিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি রোগজীবাণুও ছড়িয়ে পড়ছে। অন্যদিকে অস্বাস্থ্যকর স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় বারো হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, “হলগুলোর জন্য নির্ধারিত বাজেট প্রদান করা হয় এবং সে অনুযায়ী প্রভোস্টদের কাজ করার কথা। তবে বাজেট সীমিত হওয়ায় সব সমস্যার সমাধান একসঙ্গে করা সম্ভব হয় না।”

তিনি বলেন, “আমরা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) থেকে যে বরাদ্দ পাই, তা বিভিন্ন খাতে বণ্টন করতে হয়। আমাদের সক্ষমতা অনুযায়ী আমরা ব্যয় করার চেষ্টা করি। ইচ্ছা থাকলেও অনেক সময় আমরা কিছুই করতে পারিনা। তবুও কোথাও ঘাটতি থাকলে আমরা তা সমাধানের চেষ্টা করি।”

তিনি আরও জানান, “কয়েকটি হলে জনবল সংকট রয়েছে, যা দ্রুত নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হবে। জনবল বাড়ানো গেলে অনেক সমস্যারই সমাধান সহজ হবে। কিছু ক্ষেত্রে যে সমস্যার কথা শোনা যাচ্ছে, সেগুলো হওয়ার কথা নয় বলেই আমি মনে করি।”

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2025
Theme Customized By BreakingNews

টেলিগ্রাফ বাংলাদেশের ইউটিউব চ্যানেল

Close Welcome Bar