রাজশাহী প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
রাজশাহীর দাওকান্দি সরকারি কলেজের নারী প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অধ্যক্ষের কার্যালয়ে এক বিএনপি কর্মীকে চড় মারার অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যদিও একই ঘটনায় অভিযুক্ত বিএনপি কর্মী এখনও গ্রেফতার হননি।
২৩ এপ্রিল কলেজে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি কর্মী শাহাদত আলীর সঙ্গে আলেয়া খাতুন হীরার বাকবিতণ্ডা হয়। পরে ওই কক্ষে মারধর ও জুতাপেটার ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় কলেজে ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে। তবে এই ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ এখনো পুলিশের কাছে কোনো মামলা করেনি।
পুলিশ জানিয়েছে, শাহাদত আলীর বিরুদ্ধে আগেই একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। সাম্প্রতিক ঘটনার পর তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন এবং এখনো গ্রেফতার এড়াচ্ছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক Md. Asaduzzaman রোববার কলেজটি পরিদর্শন করেন। পরে তিনি আলেয়া খাতুন হীরাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন এবং অধ্যক্ষ ও প্রদর্শকের কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
পরিদর্শনের সময় অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও আলেয়া খাতুন হীরা কলেজে উপস্থিত ছিলেন না। অসুস্থতার কারণে তারা অনুপস্থিত রয়েছেন বলে জানানো হয়।
এর আগে শনিবার স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করে অধ্যক্ষ ও প্রদর্শককে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের দাবি জানায় এবং এলাকায় বিক্ষোভও করে।
ঘটনার সূত্রপাত তাফসির মাহফিলের জন্য চাঁদা সংগ্রহকে কেন্দ্র করে বলে জানা গেছে। ওই সময় শাহাদত আলীর সঙ্গে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলীসহ কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করেন, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে কলেজের সম্পদ ব্যবহার করে অর্থ প্রদান না করে উল্টো চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
মামলা না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে।
দুর্গাপুর থানার ওসি পঞ্চানন্দ সরকার জানান, অধ্যক্ষ থানায় জিডি করতে চাননি এবং অনলাইনে জিডির চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, শাহাদত আলীকে গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
এদিকে এ ঘটনার পর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে শাহাদত আলীর কোনো সাংগঠনিক পদ না থাকায় তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।