নজরুল ইসলাম যশোর প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বিশ্বজুড়ে আজ পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস, যা শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, সংহতি ও সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে প্রতি বছর ১ মে উদযাপিত হয়। ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর হে মার্কেট আন্দোলনে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে প্রাণ দেওয়া শ্রমিকদের স্মরণেই এই দিবসের সূচনা।
তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি বলে মনে করছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থীরা। মে দিবস উপলক্ষে তাদের প্রত্যাশা ও পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে শ্রমিকদের বাস্তব জীবনের নানা চ্যালেঞ্জের চিত্র।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শাহিন আলম বলেন, সমাজে শ্রমিকদের অবদান যথেষ্ট গুরুত্ব পেলেও বাস্তবে অনেকেই ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সম্মান থেকে বঞ্চিত থাকেন।
ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার কেয়া মনে করেন, পোশাক শিল্পে কিছু উন্নতি হলেও নির্মাণসহ বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক খাতে শ্রমিকরা এখনও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করছেন। তার মতে, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আইন নয়, প্রয়োজন কার্যকর সরকারি তদারকি এবং মালিকপক্ষের আন্তরিকতা।
শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. যায়েদ হোসাইন দেশের অর্থনীতিতে শ্রমিকদের অবদান তুলে ধরে বলেন, কৃষি, শিল্প, নির্মাণ ও সেবা খাতে শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রম জাতীয় আয়ের ভিত্তিকে শক্তিশালী করে। একই সঙ্গে প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী দৃষ্টি রাণী পোদ্দার কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, যৌন হয়রানি, নিরাপদ যাতায়াতের অভাব এবং অভিযোগ জানাতে ভয়—এসব সমস্যা এখনো রয়ে গেছে। আইন ও নীতিমালা থাকলেও সবক্ষেত্রে তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষার্থীদের মতে, শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি এবং মর্যাদা নিশ্চিত করা গেলে তবেই আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের চেতনা বাস্তবায়িত হবে।