নিজস্ব প্রতিবেদক।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
খুলনা বিভাগজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও জনবল সংকট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের ১০ জেলায় মোট ২০ হাজার ৯০৯টি পদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে ৬ হাজার ৮৮৮টি পদ।
এ অবস্থায় নিয়মিত টিকাদান ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চলতি বছর বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে ইতোমধ্যে ১৫ শিশুর মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
মাঠপর্যায়ে কর্মরত স্বাস্থ্য সহকারীরা বলছেন, জনবল সংকটের কারণে একজন কর্মীকেই একাধিক এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। খুলনার বটিয়াঘাটার স্বাস্থ্য সহকারী সুভাষ চন্দ্র গাইন জানান, তাকে সপ্তাহে দুই দিন ২৫ কিলোমিটার দূরের আরেকটি ওয়ার্ডেও দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
খুলনায় ৩৯২টি স্বাস্থ্য সহকারীর পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৫০ জন। একই ধরনের সংকট পুরো বিভাগজুড়েই রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন নতুন নিয়োগ না হওয়ায় সংকট প্রকট হয়েছে। ফলে টিকাদান, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে চাপ বাড়ছে।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. বাহারুল আলম বলেন, হামের মতো সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় কার্যকর টিকাদান কর্মসূচির জন্য পর্যাপ্ত ও দক্ষ জনবল জরুরি।
তবে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী ও সিনিয়র নার্সদের অস্থায়ীভাবে যুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্নের চেষ্টা চলছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের লক্ষ্য, খুলনা বিভাগে ১৫ লাখ ৯৭ হাজার ৮২১ শিশুকে হাম-রুবেলা টিকার আওতায় আনা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত জনবল সংকট সমাধান না হলে এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।