জবি প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে ‘গুমের অন্ধকার থেকে প্রত্যাবর্তন: স্মৃতি, সংগ্রাম ও প্রেরণায় আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন’ শীর্ষক আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী এবং গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ (সোমবার) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেলের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব শামছুল আরেফিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে গুমের অন্ধকার থেকে ফিরে আসা আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনকে নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিভিন্ন আন্দোলনে যারা গুম, নির্যাতন, আহত ও শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার এসব নির্যাতিত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন বলেন, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের সংগ্রাম ও প্রত্যাবর্তনের ঘটনা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের বহু সাহসী মানুষ আজ এখানে উপস্থিত রয়েছেন এবং তাদের প্রত্যেকের অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন বলেন, ‘বিগত সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল ও পুরান ঢাকার নেতাকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আন্দোলনে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের অবদান ইতিহাসে যথাযথভাবে মূল্যায়িত হওয়া উচিত।’
আলোচনা সভায় বক্তারা আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে গুম ও নির্যাতনের ঘটনাগুলো তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে তাঁর সাফল্য কামনা করেন। একই সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুম হওয়া তিন শিক্ষার্থী—আল আমিন, রাসেল ও রানার পরিবারের সদস্যরা এখনও প্রিয়জনদের অপেক্ষায় রয়েছেন উল্লেখ করে তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে গুম হওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আল আমিন, রাসেল ও রানার পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা আবেগঘন স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন এবং তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও বেদনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
এ ছাড়াও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে ও পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা ছড়িয়ে দিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এ-সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাহী কমিটির সহ-বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য সামছুজ্জামান সুরুজ।
এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইমরানুল হক এবং প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সহ শাখা ছাত্রদলের সাবেক-বর্তমান বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।