নিউজ ডেস্ক।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইদানীং ভোজ্য তেলের বদলে মাখন বা ঘি খাওয়ার এক ধরনের প্রবণতা দেখা গেলেও পুষ্টিবিদ ও আন্তর্জাতিক গবেষণাগুলো বলছে ভিন্ন কথা। দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং দীর্ঘায়ু পেতে মাখন, ঘি বা মাংসের চর্বির মতো প্রাণিজ ফ্যাটের চেয়ে উদ্ভিজ্জ ফ্যাট বা তেল অনেক বেশি কার্যকর ও নিরাপদ।
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষকদের করা ৯০ হাজার মানুষের ২২ বছরের খাদ্যাভ্যাস সংক্রান্ত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারে উদ্ভিজ্জ ফ্যাটের পরিমাণ বেশি হলে সামগ্রিক মৃত্যুঝুঁকি ১৬ শতাংশ কমে যায়। বিপরীতে, প্রাণিজ ফ্যাট বেশি গ্রহণ করলে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায় প্রায় ২১ শতাংশ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. সায়েদুল আরেফিন বিবিসি বাংলাকে বলেন, “এক কথায় উদ্ভিজ্জ ফ্যাট প্রাণিজ ফ্যাটের চেয়ে সবসময়ই অনেক বেশি ভালো। প্রাণিজ ফ্যাটও শরীরে প্রয়োজন, তবে তা খেতে হবে অত্যন্ত পরিমিত মাত্রায়।”
পুষ্টিবিদদের মতে, খাবারে মূলত দুই ধরণের ফ্যাট থাকে—সম্পৃক্ত (স্যাচুরেটেড) এবং অসম্পৃক্ত (আন-স্যাচুরেটেড)। মাংস, মাখন, ঘি এবং পনিরের মতো প্রাণিজ খাবারে প্রচুর পরিমাণে সম্পৃক্ত ফ্যাট থাকে। অতিরিক্ত সম্পৃক্ত ফ্যাট রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা সরাসরি হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি করে। এছাড়া অতিরিক্ত প্রাণিজ প্রোটিন ও চর্বি শরীরে ইউরিক অ্যাসিড বাড়িয়ে গিঁটে ব্যথা, কিডনিতে চাপ এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দিনে ৩০ গ্রাম এবং নারীর ২০ গ্রামের বেশি সম্পৃক্ত ফ্যাট খাওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়।
অন্যদিকে, উদ্ভিজ্জ তেল, বাদাম এবং সামুদ্রিক মাছ থেকে পাওয়া অসম্পৃক্ত ফ্যাটকে ‘হার্ট ফ্রেন্ডলি’ বা হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী বলা হয়। বিশেষ করে অলিভ অয়েল বা বাদামে থাকা ‘মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট’ রক্তে ভালো কোলেস্টেরল বজায় রাখতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে। এছাড়া সূর্যমুখী তেল বা সামুদ্রিক মাছের ‘পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট’ রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল কমায়।
অবশ্য পুষ্টিবিদরা এও মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, চর্বিহীন রেড মিট বা লাল মাংস পরিমিত পরিমাণে খেলে তা শরীর গঠন, প্রোটিনের চাহিদা পূরণ ও হিমোগ্লোবিন তৈরিতে ভূমিকা রাখে; যা শিশু এবং গর্ভবতী নারীদের জন্য বেশ পুষ্টিকর। তবে সুস্থ থাকতে যেকোনো প্রক্রিয়াজাত বা প্যাকেটজাত খাবার কেনার সময় তাতে সম্পৃক্ত ও ট্রান্স ফ্যাটের পরিমাণ দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।