মনির আহমদ আজাদ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
শিয়া–সুন্নী বিতর্কে একে অপরকে জান্নাতি বা জাহান্নামি ঘোষণা করা মানুষের কাজ নয়; এটি একমাত্র আল্লাহর ফয়সালার বিষয়। একজন মুসলমানের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে সে মানুষের জন্য কী কল্যাণকর কাজ করেছে, ইসলামের জন্য কী অবদান রেখেছে এবং জুলুমের বিরুদ্ধে কতটা ন্যায়সঙ্গত অবস্থান নিয়েছে—এসবের ভিত্তিতে।
আজ যখন ফিলিস্তিনে মসজিদুল আকসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের সংঘাত চলছে, গাজাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অসংখ্য নিরীহ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে এবং মুসলিম বিশ্বের বহু এলাকা যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞের মুখোমুখি, তখন মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় প্রয়োজন পারস্পরিক বিদ্বেষ নয়, বরং ঐক্য ও সংহতি। অনেকের মতে, এমন সংকটের সময় মুসলমানদের শক্তি ক্ষয় হয় নিজেদের মধ্যে বিভক্তি ও পরস্পরকে কাফির, জান্নাতি বা জাহান্নামি আখ্যা দেওয়ার মাধ্যমে।
ইরানের নীতির সঙ্গে কেউ একমত হতে পারেন, আবার কেউ ভিন্নমতও পোষণ করতে পারেন। তবে কোনো রাষ্ট্র বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক ভূমিকা মূল্যায়ন এবং কার ঈমান বা পরিণতি সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য—এ দুটি ভিন্ন বিষয়। ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিভাজন সৃষ্টি না করে মুসলিম বিশ্বের সার্বিক স্বার্থ, ন্যায়বিচার এবং নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানই আজ অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
মনে রাখা প্রয়োজন, কোনো দেশ বা জনগোষ্ঠী আক্রমণের শিকার হলে হামলাকারীরা সাধারণত শিয়া, সুন্নী বা অন্য মাজহাবের ভিত্তিতে নয়, বরং “মুসলমান” পরিচয়েই তাদের লক্ষ্যবস্তু বানায়। তাই বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় মুসলিম উম্মাহর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পারস্পরিক বিভক্তি নয়, বরং ন্যায়, সংহতি ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে ঐক্য গড়ে তোলা।
প্রতিবেদনটি ইচ্ছাকৃতভাবে ভারসাম্যপূর্ণ ভাষায় সাজানো হয়েছে। এতে মূল বক্তব্য বজায় রাখা হয়েছে, তবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে জান্নাতি/জাহান্নামি ঘোষণা বা ধর্মীয় বিদ্বেষ উসকে দেয় এমন ভাষা পরিহার করা হয়েছে। ###
লেখকঃ সাংবাদিক, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম। ই-মেইলঃ azad.bd373@gmail.com