নিউজ ডেস্ক
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর), ২০২৬ | রাত ৯:২৪
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বিভিন্ন বাহিনীর শাস্তাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের শাস্তি মওকুফ করে চাকরিতে পুনর্বহালের ঘটনায় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় কর্মকর্তাদের এভাবে ফিরিয়ে আনার সংস্কৃতি আমলাতন্ত্রে দলীয় দৌরাত্ম্য ও অস্থিরতা বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি এনবিআরের ২০ জন কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করেছেন রাষ্ট্রপতি। এর আগে বিভিন্ন সময়ে পুলিশ, জনপ্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনীর বহু কর্মকর্তাকে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চাকরিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সরকারি চাকরি আইন ও বিধিবিধানের তোয়াক্কা না করে এভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে পেশাদারিত্বের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
সাবেক সচিব আবু আলম মোহাম্মদ শহীদ খান বলেন, “সব সরকারের সময়েই ঘটনাগুলো ঘটে আসছে। কিন্তু দলীয় ও রাজনৈতিক বিবেচনা করে কাউকে বিদায় করলে সরকার পরিবর্তন হলে তাদের ফিরে আসার পথ তৈরি হয়। আবার রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে ফিরিয়ে আনলে সেটি রাজনৈতিক দৌরাত্মকেই শক্তিশালী করে।”
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি চাকরিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় এই সংকট তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত জিদ বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়, যা পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পর পুনর্বহালের সুযোগ করে দেয়।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া বলেন, “সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ছাড়া রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে ফিরিয়ে আনা বা পদে বসানো হলে সেটি অনিয়ম। রাজনৈতিক আনুকূল্য পাওয়া ব্যক্তিরাই এসব সুবিধা নেয়। এটি চলতে থাকলে দক্ষ ও নিরপেক্ষ আমলাতন্ত্র তৈরি হবে না।”
চলতি বছরের এপ্রিলে সরকারি কর্মচারীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ পাস হলেও তার প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে সরকারি চাকরি আইনের ৪৫ ধারা অনুযায়ী জনস্বার্থে অবসরে পাঠানোর ক্ষমতাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দুর্নীতি বা অসদাচরণের ক্ষেত্রে শোকজ, তদন্ত কমিটি ও পিএসসির মতামতের ভিত্তিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সুযোগ থাকে না। কিন্তু রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ বা বরখাস্তের সংস্কৃতি রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করছে এবং আমলাতন্ত্রকে দলীয়করণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সূত্র-বিবিসি