তানভীর আহমেদ / জাককানইবি প্রতিনিধি
রবিবার (১৯ জুলাই), রাত ১০টা ১০ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
অপতথ্য ছড়িয়ে নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও উস্কানিমূলক তথ্য প্রকাশের অভিযোগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) সাংবাদিক ফোরামের সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রবিবার (১৯ জুলাই) শিক্ষার্থীদের দুই দফা দাবিতে টানা আন্দোলনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুলাই ক্যাম্পাসে বহিরাগত কয়েকজন যুবক ছাত্রীদের গোপনে ভিডিও ধারণ করলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের আটক করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিক ফোরামের সদস্য ও দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি আসাদুল্লাহ আল গালিব ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য ছাড়াই ভিডিওটি সম্পাদনা করে ক্লিকবেইট আকারে ফোরামের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীর ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন ভুঁইফোড় পেজে অপপ্রচার চালানো হয়। এতে ওই শিক্ষার্থী সাইবার বুলিং ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হওয়ার শিকার হন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভিডিওটি অপসারণের নির্দেশনা দিলেও সাংবাদিক ফোরামের বিলম্বের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী রাফেল আফ্রাদ বলেন, “ছেলেরা ভিডিও প্রকাশ না করার অনুরোধ করলেও সাংবাদিক ফোরামের সদস্য তা কাটছাঁট করে ভুলভাবে প্রচার করেন। এর ফলে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। আমরা এ ধরনের হলুদ সাংবাদিকতার বিচার চাই।”
ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। তাদের দুই দফা দাবির মধ্যে ছিল সাংবাদিক ফোরামের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা এবং নারী শিক্ষার্থী হেনস্তার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করা। আন্দোলনের মুখে প্রশাসন ফোরামের কার্যক্রম স্থগিত ও তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর, প্রক্টর সঞ্জয় কুমার মুখার্জি এবং ছাত্র উপদেষ্টার উদ্যোগে সাংবাদিক ফোরাম গঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটির বিরুদ্ধে মানহানিকর ছবি, ভিডিও প্রকাশ ও অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি শাকিল বাবুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।