HLATHOAICHA Chak / রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬), বিকেল ৫টা ৫৩ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
দীর্ঘ আট ঘণ্টা অবরোধের পর আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। এর ফলে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় রাবি চারুকলা অনুষদ গেটে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) এর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, “আমরা আমাদের জায়গা থেকে মোটামুটি সন্তুষ্ট। সেই প্রেক্ষিতে আমরা এই মুহূর্ত থেকে আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিলাম। ৬ আগস্টের পর আমরা এ বিষয়ে সবার সামনে বিস্তারিত তুলে ধরব।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের আজকের এই কর্মসূচির কারণে অনেক যাত্রী ভোগান্তির শিকার হয়েছেন, যার জন্য আমরা দুঃখিত। একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে আমাদের এই কর্মসূচি পালন করতে হয়েছে।”
অবরোধের প্রেক্ষাপট ও দাবি পূরণ
সোমবার দিবাগত রাতে ঢাকা থেকে পদ্মা এক্সপ্রেসে রাজশাহী ফেরার পথে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফোরকান উদ্দীন ট্রেনের টিটিই’র অনৈতিক ঘুষ দাবির প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে টিটিই ও তার সহযোগীরা ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করেন এবং ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেন।
পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বৈঠকে ৪ দফা দাবি মেনে নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত টিটিইকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং উচ্চতর তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা প্রদান এবং রাবি স্টেশনে পদ্মা, তিতুমীর ও সাগরদাড়ী এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীকে হেনস্তার ঘটনায় আমরা শাস্তি নিশ্চিত করতে পেরেছি। শিক্ষার্থীদের বাকি দাবিগুলোও মেনে নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন।”
বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ বলেন, “সভায় শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ৪টি দাবি মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করব এবং ট্রেনগুলোর যাত্রাবিরতির নির্দেশনা দিয়েছি। আমরা চাই, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়।”