বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
শিক্ষকসংকটে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বাঘারপাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে। বছরের পর বছর ধরে একই পরিস্থিতি বিরাজ করলেও এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই। এমন পরিস্থিতিতে পাঠদান স্বাভাবিক রাখতে গিয়ে অন্য শিক্ষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানায়, ১৯৫৮ সালে বাঘারপাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপিত। বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করে থাকে। এ বিদ্যালয়ে বর্তমান ৫০০ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে শিক্ষক না থাকায় গত দুই বছর কোন শিক্ষার্থী এ বিভাগে ভর্তি হচ্ছে না।
খেঁাজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালে এই বিদ্যালয়টিকে সরকারীকরণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সরকারীকরণের আগ পর্যন্ত বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক-কর্মচারীর সংকট ছিল না বলেই চলে। কোনো শিক্ষক চাকরি থেকে অবসরে গেলেও অল্প দিনেই শূন্যতা পূরণ করা যেত। কিন্তু বিপত্তি সরকারীকরণের পর। আগে যঁারা কর্মরত ছিলেন, তঁাদের অনেকেই অবসরে চলে গেছেন। এতে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষকসংকট ক্রমশ প্রকট হচ্ছে।
সূত্র জানায়, বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের দুটি পদসহ শিক্ষকের ১৬টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, ইংরেজি, বাংলা, রসায়ন, পদার্থ, বায়োলজি ও হিসাববিজ্ঞানের একটি পদসহ ৮টি পদই শূন্য। এ পরিস্থিতিতে অন্য বিষয়ের শিক্ষকদের দিয়ে শূন্যপদের বিষয়ে কোনো রকমে পাঠদান করা হচ্ছে।
এদিকে অব্যাহত শিক্ষকসংকটে সন্তানদের পড়ালেখা নিয়ে দুশ্চিতায় আছেন অভিভাবকেরা। বাঘারপাড়া পৌর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আহাদ বলেন, সাফল্যের দিক থেকে উপজেলার প্রথম কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটি হওয়া সত্ত্বেও এই বিদ্যালয়টির শিক্ষকসংকট দূর না করা খুবই দুঃখজনক।’
স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাওলানা ইসমাইল হোসেন (ভারপ্রাপ্ত) জানান, শিক্ষকসংকটে শ্রেণিকার্য পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে একজন শিক্ষককে প্রতিদিন গড়ে পঁাচ-ছয়টি ক্লাস নিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না । উপজেলা নিবার্হী অফিসার ভুপালী সরকার জানান, বাঘারপাড়া সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকটে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে পত্র দেওয়া হয়েছে।