প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট প্রতিনিধি
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ২০২৬
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাগেরহাট শহরের পলি ক্লিনিকে পিত্তথলির পাথর অস্ত্রোপচারের সময় নাছিমা আক্তার (২০) নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোর ৪টার দিকে তার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা। নাছিমা কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের বারদাড়িয়া গ্রামের সুমন সরদারের স্ত্রী।
স্বজনদের ভাষ্য, সোমবার রাতে নাছিমাকে ক্লিনিকে ভর্তি করা হয় এবং রাত ১১টার দিকে অস্ত্রোপচার শুরু হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। অস্ত্রোপচার চলাকালে অপারেশন থিয়েটারের ভেতর থেকে চিৎকারের শব্দ শুনেছিলেন বলে দাবি করেন তারা।
নাছিমার স্বামী সুমন সরদার বলেন, “আমরা অন্যত্র চিকিৎসা করানোর কথা ভাবছিলাম। চিকিৎসায় অবহেলার কারণে আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে, আমি এর নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।”
ঘটনার পর ক্লিনিকে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বাগেরহাট সদর মডেল থানার পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ক্লিনিকটিতে আগেও রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, তাই এর চিকিৎসাব্যবস্থা ও অবকাঠামো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পলি ক্লিনিকের পরিচালক ডা. সুনীল কুমার বলেন, “প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অস্ত্রোপচার শুরু হয়। অপারেশনের সময় হঠাৎ রোগীর হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। চিকিৎসকরা চেষ্টা করলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।”
তিনি আরও জানান, অস্ত্রোপচারের আগে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে সম্মতিপত্র নেওয়া হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেই অপারেশন করা হয়েছিল।
বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন বলেন, “এখন পর্যন্ত রোগীর স্বজনদের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ. স. ম. মো. মাহবুবুল আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।