নিজস্ব প্রতিনিধি, নড়াইল
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ২০২৬, বিকেল ৪টা ৩৪ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
নড়াইলের ৪৯৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩২০টিতেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। প্রায় ৬৫ শতাংশ বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলায় প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান ও একাডেমিক কার্যক্রম। দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় জেলার শিক্ষার পরিবেশ ও মানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, নড়াইল সদর উপজেলার ১৭৫টির মধ্যে ৯০টি, লোহাগড়া উপজেলার ১৬৪টির মধ্যে ১১২টি এবং কালিয়া উপজেলার ১৫৬টির মধ্যে ১১৮টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজ সামলাতে গিয়ে তারা বাড়তি চাপের মুখে পড়ছেন।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষক কৃপা শিকদার বলেন, “২০১৮ সাল থেকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছি, কিন্তু সহকারী শিক্ষকের বেতন স্কেল ও সুযোগ-সুবিধাই পাচ্ছি। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেও পদমর্যাদাগত সুবিধা না পাওয়ায় হতাশা তৈরি হচ্ছে।”
শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের নথিপত্র সংরক্ষণ, অনলাইনে তথ্য পাঠানো, সভা-সমন্বয় ও অফিস ব্যবস্থাপনার মতো দাপ্তরিক কাজে তাদের অনেক সময় ব্যয় করতে হয়। এতে শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। বিশেষ করে যেসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে, সেখানে সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
৯১ নম্বর বিজয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আশিকুর রহমান বলেন, “২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য। শিক্ষার্থী ১৫৬ জন এবং শিক্ষকের পদ ৭টি হলেও বর্তমানে ৬ জন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজ চালানো অত্যন্ত কষ্টকর।”
ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক মাহমুদা পারভীন জানান, অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকতে হওয়ায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া দাপ্তরিক প্রয়োজনে প্রায়ই বিদ্যালয়ের বাইরে থাকতে হয় বলে জানান সহকারী শিক্ষক সোনিয়া খানম।
শূন্য পদ পূরণে কর্তৃপক্ষের আশ্বাস
এ বিষয়ে নড়াইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের বেশ কিছু পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে অনেক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে তাদের প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি পাঠদানও চালিয়ে যেতে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত এসব পদ পূরণ হলে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদানে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরবে।”