স্টাফ রিপোর্টার / যশোর
রবিবার (২৩ আগস্ট), রাত ৮টা
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
যশোর জেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি বিদ্যালয়ে পাওয়া গেছে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক, যার ফলে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) ল্যাবে পানি পরীক্ষার পর এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
ডিপিএইচই যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার আট উপজেলায় মোট ১ হাজার ২৯০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে মণিরামপুরে ২৬৭টি, যশোর সদরে ২৫১টি, অভয়নগরে ১১৭টি, বাঘারপাড়ায় ১০২টি, চৌগাছায় ১৩৯টি, ঝিকরগাছায় ১৩১টি, কেশবপুরে ১৫৮টি এবং শার্শায় ১২৫টি বিদ্যালয় রয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, প্রতিটি বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলেই আর্সেনিক রয়েছে, তবে ১৬টিতে এর মাত্রা সহনীয় সীমার চেয়ে বেশি।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, আর্সেনিক শনাক্তের বিষয়টি তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। মণিরামপুরের কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস সাত্তার বলেন, “কোনো সরকারি দপ্তর বিষয়টি সম্পর্কে আমাদের এখনো জানায়নি। জানালে টিউবওয়েলটি চিহ্নিত করে শিক্ষার্থীদের পানি পান থেকে বিরত রাখতাম।”
শার্শার কায়বা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. সাইদুন্নেছা বলেন, “ওই টিউবওয়েলের পানি সাধারণত কেউ পান করে না। তারপরও মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক পাওয়ার বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো প্রয়োজন ছিল। বিষয়টি নিশ্চিত হলে ওই টিউবওয়েলের পানি পান বন্ধ করা হবে।”
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) যশোরের সভাপতি অধ্যাপক পাভেল চৌধুরী বলেন, “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলে আর্সেনিকের উপস্থিতি উদ্বেগজনক। ঝুঁকিপূর্ণ টিউবওয়েলগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা দরকার। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পানির বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে।”
যশোর মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহাবুবুর রহমান বলেন, “আর্সেনিক একটি ঘাতক বিষ, ন্যূনতম আর্সেনিক থাকলেও সেই পানি পান করা যাবে না। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোকে উদ্যোগী হতে হবে। নিরাপদ পানি না পান করলে শিশুরা নানা ধরনের রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হবে।”
যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ বলেন, “যেসব টিউবওয়েলের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক পাওয়া গেছে, সেসব টিউবওয়েলের পানি পান করা যাবে না। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প নিরাপদ পানির উৎসের ব্যবস্থা করা হবে।”
ডিপিএইচই যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল আলিম গাজী বলেন, “সম্প্রতি জেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলের পানির আর্সেনিক পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রতিটি টিউবওয়েলের পানিতেই আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”