প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর), বিকাল ৩টা ৩৫ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাগেরহাটের মোংলায় ডেঙ্গু ও হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। গত তিন মাসে উপজেলায় ডেঙ্গুতে ২৭৪ জন এবং হামে ১৫৯ জনসহ মোট ৪৩৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে হাসপাতালে ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী এবং ৫ জন হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্ষা পরবর্তী সময়ে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি এবং টিকা কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতাকে এই প্রাদুর্ভাবের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও তরুণদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জনবহুল এলাকায় মশা নিধন কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে না। এছাড়া স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক প্রচারণার অভাবে অনেক রোগী প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলেও সময়মতো চিকিৎসা নিচ্ছেন না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, জ্বর বা হামের উপসর্গকে সাধারণ অসুস্থতা ভেবে অবহেলা করলে তা পরবর্তীতে জটিল আকার ধারণ করে।
হাসপাতালে শয্যা সংকটের কারণে রোগীর বাড়তি চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। রোগীদের স্বজনদের দাবি, মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর স্প্রে ছিটানো এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত না করলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহীন বলেন, “ডেঙ্গু ও হামের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ নিরলস কাজ করছে। ভর্তি রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে এবং অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘমেয়াদে মশা নিধন কর্মসূচি জোরদার এবং শিশুদের হামের টিকার আওতা বাড়ানো জরুরি। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।