আবু কাওসার মাখন, রাজশাহী ব্যুরো
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর), বিকেল ৪টা ২৭ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) আর্কিটেকচার বিভাগের ২৫ সিরিজের শিক্ষার্থী মাইশা মোর্শেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বিভাগের তথাকথিত ‘চেইন সিস্টেম’, সিনিয়রদের আচরণ ও অতিরিক্ত একাডেমিক চাপের কারণে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
ফেসবুকে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে মাইশা অভিযোগ করেন, বিভাগে ‘চেইন সিস্টেম’ বা ‘আমলা-কামলা’ প্রথা প্রচলিত রয়েছে। এই প্রথার কারণে তাকে নিয়মিত কটূক্তি, অপমান ও অবহেলার শিকার হতে হয়েছে। একাডেমিক কাজের প্রয়োজনে সিনিয়রদের বাসায় রাতে থাকার বা ‘নাইট স্টে’র যে প্রচলন রয়েছে, তা তার পরিবারের কাছে গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় তিনি তীব্র মানসিক চাপে ছিলেন।
মাইশা বলেন, “রুয়েট কাগজে-কলমে র্যাগিংমুক্ত হলেও কিছু সিনিয়রের অযাচিত আচরণ আমার একাডেমিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ক্লাস এবং ক্যাম্পাসে খাবারের অপ্রতুলতায় আমি শারীরিক সমস্যায় পড়েছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তার ওপর দায় চাপিয়ে তাকে মানসিকভাবে বিভ্রান্ত করা হয়। একপর্যায়ে তাকে বয়কটের চেষ্টাও করা হয়। ওই সময় সিনিয়রদের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাননি বলেও জানান তিনি।
এদিকে মাইশার অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রুয়েটের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. আরিফ আহম্মদ চৌধুরী বলেন, “মাইশা আমাদের কাছে একটি আবেদন দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, রাজশাহীর আবহাওয়া তার অনুকূলে নয় এবং তিনি অসুস্থ বোধ করছেন, তাই লিভ নিতে চান।”
র্যাগিং বিষয়ে তিনি আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ দেননি। আর পড়াশোনা কিছু তো চাপ থাকবেই। আমরা জেনেছি, রুয়েট প্রশাসন বা শিক্ষকদের প্রতি মাইশার কোনো অভিযোগ নেই। কোনো ছাত্র বা ছাত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য আছে কি না, তা আমার জানা নেই।
অর্থাৎ, মাইশা ফেসবুকে মানসিক হয়রানি ও পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ তুললেও প্রশাসনের কাছে দেওয়া লিখিত আবেদনে এসবের উল্লেখ নেই। তবে নিজের মানসিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন।