মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর), সন্ধ্যা ৭টা
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় সিটি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া যমজ দুই নবজাতকের চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সমাজসেবা কর্মকর্তাকে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৬ সেপ্টেম্বর প্রসবব্যথা শুরু হলে প্রসূতি আফসানাকে লোহাগাড়া সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. কানিজ নাসিমার পরামর্শে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে যমজ শিশুর জন্ম হয়। অপরিণত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় জন্ম নেওয়া শিশু দুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে না পাঠিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে রাখার পরামর্শ দেন ডা. বদিউজ্জামান।
নিহত শিশুদের মামা ইসমাইল বলেন, “হাসপাতালে একদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শিশু দুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও তাদের চট্টগ্রামে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পরে সাউন্ড হেলথ হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. ইকবাল হোসেনের পরামর্শে চট্টগ্রামে নেওয়ার পথে একটি নবজাতকের মৃত্যু হয়। অপর শিশুটি চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে এনআইসিইউতে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যায়।”
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গর্ভকালীন সময়ে প্রসূতি চট্টগ্রামের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে ছিলেন এবং অক্টোবরের শুরুতে প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ ছিল। প্রায় এক মাস আগে প্রসবব্যথা শুরু হওয়ায় নবজাতকদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর প্রয়োজন ছিল। স্থানীয় হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণেই পরিস্থিতি জটিল হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
সিটি হাসপাতালের পরিচালক ডা. বদিউজ্জামান বলেন, “হাসপাতালে ওই ধরনের যমজ শিশু মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে আমার জানা নেই। এটি অন্য হাসপাতালে হয়ে থাকতে পারে।”
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ বিন আখন্দ বলেন, “ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সমাজসেবা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সাজেদুর রহমান বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। তবে আমি বিষয়টি দেখছি এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”