নিউজ ডেস্ক
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর), সকাল ১০টা
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী ও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো না থাকায় রাজ্যের প্রায় ২৫০টি সরকারি স্বীকৃত বেসরকারি মাদ্রাসা বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি শিক্ষাবর্ষ শেষ হওয়ার পর ডিসেম্বরের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়া কারণ দর্শানোর নোটিস পাওয়া প্রায় ১০০টি মাদ্রাসার জবাব খতিয়ে দেখে আরও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
প্রশাসনের ভাষ্য, মাঝপথে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হতে পারে। তাই চলতি শিক্ষাবর্ষ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে হাতেগোনা শিক্ষার্থী রয়েছে, তাদের শিক্ষাবর্ষ শেষ করার সুযোগ দেওয়া হবে। এরপর নতুন করে ভর্তি বন্ধ করে ধাপে ধাপে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম গুটিয়ে ফেলা হবে।
এর আগে অনুমোদনহীন ও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো না থাকা ২৫২টি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে রাজ্য সরকার। গত কয়েক দিনে এসব প্রতিষ্ঠানকে বন্ধের নোটিস দেওয়া হয়েছে। রাজ্যজুড়ে চালানো সমীক্ষায় প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমোদন, পরিকাঠামো, পরিচালন ব্যবস্থা, শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির মতো বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হয়েছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু বলেন, “শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করাই সরকারের লক্ষ্য। আইন মেনে ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে যেসব মাদ্রাসা চলছে, সেগুলো বন্ধ করার প্রশ্নই ওঠে না। আমাদের আপত্তি মূলত সেই সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে, যাদের অনুমোদন বা পরিকাঠামো নিয়ে সমস্যা রয়েছে।”
শোকজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের নিজেদের অবস্থান জানাতে হবে। প্রয়োজনীয় নথি ও পরিকাঠামো সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার পর জবাব সন্তোষজনক না হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনিক মহলের ধারণা, শোকজ পাওয়া ১০০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা থেকে ৫০টির বেশি মাদ্রাসা বন্ধের মুখে পড়তে পারে।
নবান্ন সূত্রে জানা যায়, রাজ্যে মাদ্রাসাগুলোর অবস্থা নিয়ে ফের সমীক্ষা হতে পারে। আগের সমীক্ষায় পাওয়া তথ্য নতুন করে যাচাই করার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হবে। অর্থাৎ, এক দফায় নয়, বরং পর্যায়ক্রমে মাদ্রাসাগুলোর অনুমোদন, শিক্ষার্থী সংখ্যা ও পরিকাঠামো পরীক্ষা চলমান থাকবে।