আহম্মদ আব্দুল্লাহ,ববি প্রতিনিধি.।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করা কিংবা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়তা করা একজন শিক্ষকের দায়িত্ব সাধারণত এসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। তবে কোনো কোনো শিক্ষক শ্রেণিকক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের জীবনের অংশ হয়ে ওঠেন। কখনো অভিভাবক, কখনো পরামর্শদাতা, আবার কখনো অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে পাশে থাকেন। তেমনই একজন শিক্ষক আব্দুল্লাহ মুনাম। শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি শুধু একজন শিক্ষক নন, একজন অভিভাবক ও অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষ হিসেবেও পরিচিত।
আব্দুল্লাহ মুনাম বর্তমানে বিএএফ শাহীন কলেজ কুর্মিটোলায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে যোগদান করেন। এর আগে তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তিনি প্রায় চার বছর ধরে শিক্ষকতা পেশার স যুক্ত রয়েছেন।
কলেজে দায়িত্ব পালনের সময় আব্দুল্লাহ মুনাম “লিলি” সেকশনের ক্লাস টিচার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শুধু পড়াশোনা কিংবা শ্রেণিকক্ষের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করার পাশাপাশি তাঁদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, ক্যারিয়ার ও জীবনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েও কথা বলতেন তিনি।
লিলি সেকশনের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ তাওহিদ বলেন, “স্যার আমাদের কাছে শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না, একজন অভিভাবকের ভূমিকাও পালন করেছেন। শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন সময়ে তাঁর পরামর্শ ও সহযোগিতা পেয়েছি। শিক্ষার্থীদের উন্নতির জন্য তিনি সবসময় আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন।”
আরেক শিক্ষার্থী সিয়াম বিন ইসলাম বলেন, “স্যার শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতেন না। আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েও দিকনির্দেশনা দিতেন। তাঁর উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা আমাদের অনেককে নিজেদের লক্ষ্য নির্ধারণ এবং পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে সহায়তা করেছে।”
শিক্ষার্থীদের মতে, আইসিটি বিষয়ের পাঠদানের পাশাপাশি আব্দুল্লাহ মুনাম শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে এবং লক্ষ্য ঠিক করতে উৎসাহিত করতেন। তাঁর এই ভূমিকার কারণে শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি একজন বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের পরিচয়ের বাইরে একজন অনুপ্রেরণাদায়ী শিক্ষক হিসেবেও জায়গা করে নিয়েছেন।