দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
জবি প্রতিনিধি,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আধুনিকায়নকৃত কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের উদ্বোধন করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) তত্ত্বাবধানে আধুনিকায়ন করা মিলনায়তনটির উদ্বোধন আজ রবিবার (৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম বলেন, ‘একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক অডিটোরিয়াম অত্যন্ত জরুরি। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এ কাজটি করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।’
তিনি বলেন, ‘এ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে এই প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। শিক্ষার মান বৃদ্ধির মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সুনাম ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।’
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘বর্তমান সময়ে যে সামাজিক অবক্ষয় চলছে, এ সময়েও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। অতীতে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর পর আমরা গণতান্ত্রিক পথে হাঁটা-চলা শুরু করেছি। এই গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সকলকে খেয়াল রাখতে হবে।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন ও পুরান ঢাকার ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে বিশ্বজিৎ চত্বর নির্মাণের বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে। বাহাদুর শাহ পার্কের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তরের বিষয়েও সহযোগিতা করা হবে। একই সঙ্গে ধুপখোলা মাঠকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ হিসেবে স্থায়ীভাবে ব্যবহারের ব্যবস্থা করতেও সহযোগিতা করা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি আধুনিকায়নকৃত কেন্দ্রীয় মিলনায়তন নির্মাণে সহযোগিতার জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
উপাচার্য বলেন, ‘বাংলাদেশের শিক্ষা বিস্তারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি কিংবদন্তি নাম।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অবস্থিত বাহাদুর শাহ পার্কের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে এর তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে অবৈধ দখলদাররা পার্কটির সৌন্দর্য নষ্ট করছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে।’ পার্কটির দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়কে দেওয়া হলে এর সৌন্দর্য রক্ষা এবং ঐতিহাসিক স্মৃতিস্মারক হিসেবে ব্যবহারের কথা জানান তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ২১ বছরেও এই বিশ্ববিদ্যালয় বঞ্চনার শিকার হয়েছে। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও শারীরিক-মানসিক বিকাশের জন্য একটি নিজস্ব খেলার মাঠ প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত ধুপখোলা মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য স্থায়ীভাবে ব্যবহারের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
পুরান ঢাকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ধরে রাখার প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের মাধ্যমে পুরান ঢাকার সাংস্কৃতিক আবহকে আরও সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত রাখার জন্য ফ্যাসিবাদবিরোধী চিহ্ন হিসেবে বিশ্বজিৎ চত্বর নির্মাণ করা গেলে এটিকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকায় একটি সাংস্কৃতিক বলয় তৈরি হবে। এ উদ্যোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্ব দেবে বলেও জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য জনাব হামিদুর রহমান বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিকায়নকৃত অডিটোরিয়াম উদ্বোধন অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে যে জায়গাটি রয়েছে, সেটি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে নিয়ে এসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জায়গাটি ব্যবস্থার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।