আবু কাওসার মাখন, রাজশাহী ব্যুরো
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর), ২০২৬ সালের বিকেল ৩টা ৫১ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হক পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ও জনতার একটি দল প্রবেশ করে তাঁকে অবরুদ্ধ করার পর তিনি এই পদত্যাগপত্র জমা দেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার ও উপাচার্যের একান্ত সহকারী নাজমুল হোসেনও পদত্যাগ করেছেন।
উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হক দাবি করেন, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি। তিনি অভিযোগ করেন, জোরপূর্বক একটি পদত্যাগপত্রে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে এবং পরে তাঁকে কার্যালয় থেকে বের করে দিয়ে সেখানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ডা. জাওয়াদুল হক বলেন, “জোরপূর্বক একটি পদত্যাগপত্রে আমার স্বাক্ষর আদায় করা হয়েছে। আমাকে অফিস থেকে বের করে দিয়ে কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েছি।”
কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত—এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, “ঠিকাদারদের কিছু লোক, যারা কাজের জন্য চাপ সৃষ্টি করছিল, তারা মব সৃষ্টি করে এসব করেছে।”
অভিযোগের পাহাড়
উপাচার্য জাওয়াদুল হকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের গাছ, পুরোনো ভবন ও সীমানাপ্রাচীরসহ বিভিন্ন সরকারি সম্পদ বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, নিয়োগে বিধিবহির্ভূত সিদ্ধান্ত, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়ম লঙ্ঘন করে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।
এদিকে উপাচার্যের একান্ত সহকারী নাজমুল হোসেনের বিরুদ্ধেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়মে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলে আন্দোলনকারীরা দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।