নিউজ ডেস্ক
বুধবার (১৬ অক্টোবর), ২০২৬
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও শিক্ষার প্রকৃত গুণগত মান নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের আলোকে ‘বছরভিত্তিক’ মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। পাসের হারের কৃত্রিম প্রতিযোগিতার বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে কমিটি।
গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব প্রস্তাব ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সভায় শিক্ষা খাতের বরাদ্দকৃত অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়া এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে গবেষণা পরিচালনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া বলেন, “বিগত সরকার শিক্ষা খাতে শুধু পাসের হারের কৃত্রিম প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী নয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মেলাতে হলে বছরভিত্তিক মূল্যায়ন ও আধুনিক শিক্ষাক্রমের বিকল্প নেই।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই শুধু বছরব্যাপী নয়, তিন মাস অথবা ছয় মাস অন্তর শিক্ষা ব্যবস্থায় শিখনফল মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু হোক। কমিটির আগামী সভায় শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতে আরও দফাওয়ারী সুপারিশ করা হবে এবং শিক্ষার রোডম্যাপ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হবে।”
বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি ৬৮ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ধরা হয়েছে। এর আওতায় ২০২৬ সালে গোল্ডেন জিপিএ অর্জনকারী প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ প্রদান এবং ৭০ লাখ ছাত্রীকে ৪ হাজার কোটি টাকার বৃত্তির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া শিক্ষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইএফটি ও আইবাস++ পদ্ধতিতে প্রায় ৭০ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বকেয়া পাওনা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অবসরপ্রাপ্তদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধার সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন।
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) সামসুর রহমান খান জানান, ২০২৫ সাল পর্যন্ত কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির হার ১৯.১৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, এখন থেকে শিক্ষার সার্বিক মান ও নীতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে সংসদ সদস্যরা সরেজমিনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন। এছাড়া পরবর্তী বৈঠকগুলোতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাবোর্ডের প্রধানদের সশরীরে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।