নিউজ ডেস্ক
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ২০২৬, সন্ধ্যা ৭টা
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
শিক্ষার্থীদের মুখস্থবিদ্যা ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক মানসিকতা থেকে বের করে আনতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে নতুন চারটি পাঠ্যবই যুক্ত হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রণীত এই বইগুলো শিক্ষার্থীদের আনন্দময় শিক্ষা ও বাস্তবমুখী কর্মদক্ষতা অর্জনে সহায়তা করবে। আগামী ২৫ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসি) সভায় বইগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন পাঠ্যবইগুলোর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এনসিটিবি জানিয়েছে, এই চারটি বইয়ের প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ কপি মুদ্রণ করা হবে। আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে মুদ্রণ কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, “শিক্ষাব্যবস্থাকে আনন্দময়, বাস্তবমুখী ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন করে তুলতে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন। তাঁর রূপকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই পাঠ্যক্রমে নতুন এই বইগুলো যুক্ত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক শিষ্টাচার ও সুনাগরিকের গুণাবলি তৈরি হবে।”
এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, “নতুন চারটি পাঠ্যপুস্তকের পাণ্ডুলিপি প্রণয়ন ও ভ্যালিডেশন কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ২৫ অক্টোবর এনসিসির সভায় অনুমোদনের পরই কন্টেন্টগুলো মুদ্রণের জন্য প্রেসে পাঠানো হবে।”
বইয়ের বিষয়বস্তু ও লক্ষ্য
চতুর্থ শ্রেণির ‘খেলাধুলা’ বইটিতে ফুটবল, ক্রিকেট ও সাঁতারসহ বিভিন্ন খেলার নিয়মের পাশাপাশি আত্মরক্ষার কৌশল ও প্রাথমিক চিকিৎসার বিষয়গুলো হাতে-কলমে শেখানো হবে। ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বইটিতে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনধারা তুলে ধরা হয়েছে।
ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য প্রণীত ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বইটিতে পরীক্ষা ভীতি দূর করে আনন্দময় অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বইটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানের মানসিকতা ও হাতে-কলমে প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।
এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) প্রফেসর ড. এ. কে. এম শওকত আলী খান বলেন, “নতুন এই চারটি পাঠ্যপুস্তক প্রবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীরা পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে গিয়ে আনন্দময় পরিবেশে বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবে।”