‘নকলকে না বলি, দিন বদলে দৃঢ় প্রত্যয়ে দেশকে গড়ে তুলি’-এই প্রেরণাদায়ী স্লোগানকে সামনে রেখে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা–২০২৫।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চিতলমারী সরকারি এস.এম. মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এবছর উপজেলার ৩২টি বিদ্যালয় থেকে মোট ৩৭১ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে ছাত্র ১৩৪ জন ও ছাত্রী ২৩৭ জন। শিক্ষায় মেয়েদের এই অংশগ্রহণ স্থানীয়ভাবে একটি আশাব্যঞ্জক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) পরীক্ষার তৃতীয় দিনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্র পরিদর্শনকালে কর্তব্যরত কেন্দ্র সচিব ও চিতলমারী সরকারি এস.এম. মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব তাপশ কুমার খান বলেন, “পরীক্ষা সম্পূর্ণ শান্ত, সুশৃঙ্খল ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের বিঘ্ন বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।”
তিনি আরও জানান, চলমান তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ায় গতদিন ও আজ মিলিয়ে মোট ২২ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে। এর মধ্যে ৬ জন ছেলে ও ১৬ জন মেয়ে। তবে অধিকাংশ শিক্ষার্থী প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে, যা তাদের শিক্ষার প্রতি দৃঢ় প্রত্যয় ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচায়ক।
পরিদর্শনে দেখা যায়, পরীক্ষাকেন্দ্রের পরিবেশ ছিল পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা ছিলেন অত্যন্ত দায়িত্বশীল, মানবিক ও সহানুভূতিশীল। শীতজনিত অসুস্থতা বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়া হয়। পাশাপাশি অভিভাবকদের সার্বিক সহযোগিতায় পুরো কেন্দ্রজুড়ে বিরাজ করছিল শান্তিপূর্ণ পরিবেশ।
অভিভাবকরা জানান, এ ধরনের নকলমুক্ত ও সুশৃঙ্খল পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই বৃত্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীরা উৎসাহ ও স্বীকৃতি পেয়ে আরও এগিয়ে যাবে।
শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহলের মতে, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি সততা, শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই বয়সেই নকলবিরোধী চেতনা তৈরি হলে ভবিষ্যতে তারা সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
সবার প্রত্যাশা, আজকের এই শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের আলোকিত বাংলাদেশ গড়ার প্রধান কারিগর হবে।