জাবি প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শিক্ষক নিয়োগে কার্যকর নতুন নীতিমালা অনুসরণ, পুরোনো নীতিমালার আওতায় নেওয়া সব সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং শিক্ষক নিয়োগসহ সব প্রশাসনিক কার্যক্রমে ডিজিটাল রেকর্ড ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থাসহ পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এই দাবিগুলো তুলে ধরেছে।
এসময় ছাত্রশক্তির নেতারা বলেন, গত বছরের ২০ জানুয়ারি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে অটোমেশন সিস্টেম বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছিল। তবে বাস্তবে শুধু লাইব্রেরিতে সীমিত পরিসরে অটোমেশন চালু করা হয়েছে। রেজিস্ট্রার ভবন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তর ও পরিবহন ব্যবস্থায় এখনো অটোমেশন বাস্তবায়ন হয়নি, যা প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পুরোনো ও সীমাবদ্ধ নীতিমালা অনুসরণ করা একাডেমিক স্বচ্ছতা, নৈতিকতা ও গুণগত মানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ২০১৬ সালের নীতিমালায় ডেমো ক্লাস ও কাঠামোবদ্ধ ভাইভার বাধ্যবাধকতা না থাকায় শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষণ দক্ষতা ও গবেষণাগত যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন সম্ভব নয়। এসব সীমাবদ্ধতা দূর করতেই পরবর্তীতে সংস্কারকৃত নতুন নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, ভর্তি, ফলাফল প্রকাশ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে এখনো পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন বাস্তবায়িত হয়নি। গত বছরের ২০ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন অটোমেশন বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তা লাইব্রেরি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জাবি শাখা ছাত্রশক্তির সভাপতি জিয়াউদ্দিন আয়ান বলেন, “অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আমরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের আশ্বাস দিয়েছিল যে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে অটোমেশন প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু দুঃখ ও হতাশার সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করছি—আজ পর্যন্ত সেই অটোমেশনের কাজ এক-তৃতীয়াংশও বাস্তবায়িত হয়নি।”