প্রিন্স মন্ডল অলিফ, নিজস্ব প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার পুরাতন কালশিরা গ্রামের সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল কুমার সিকদার দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে অবসরে যাওয়ায় তাকে সংবর্ধনা জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রিয় এ শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানটি ছিল আবেগঘন ও স্মৃতিময়, যেখানে সহকর্মী, ছাত্রছাত্রী ও এলাকাবাসীর ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতায় ভরে ওঠে পুরো আয়োজন।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হরিদাস ঘরামী। তিনি বলেন, নির্মল কুমার সিকদার শুধু একজন শিক্ষকই নন, তিনি ছিলেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও নৈতিক দিকনির্দেশক। তাঁর সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধ বিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা ফুলেল শুভেচ্ছায় তাকে সম্মান জানান। অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আড়ুয়াবর্ণী আলিয়া মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ইদ্রিসুর রহমান, চিতলমারী প্রেস ক্লাবের সভাপতি একরামুল হক মুন্সী, চিতলমারী বাজার ব্যবসায়ী ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ সোয়েব হোসেন গাজী, চিতলমারী হাসিনা বেগম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শৈলেন্দ্র নাথ বাড়ৈ। শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেন আজিজ শেখ এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অনুভূতি প্রকাশ করেন দশম শ্রেণির ছাত্রী আমেনা আক্তার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চিতলমারী সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ মনিরুজ্জামান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ধলা, বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আবু সাঈদ, খলিলুর রহমান, জিন্নাত আলী শেখ, সাবেক উপজেলা শ্রমিকদল সভাপতি টিপু সিকদার, গণঅধিকার পরিষদের জেলা নারী বিষয়ক সম্পাদিকা জিনিয়া আক্তার চায়না, উপজেলা ছাত্র গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি আলী আকবার জিসানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ গোলাম ফারুক বুলু ।বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, নির্মল কুমার সিকদার দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের নৈতিকভাবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর অবদান বিদ্যালয় ও এলাকার মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিদায় মুহূর্তে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার মধ্য দিয়ে শেষ হয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি।