রাবি প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণভোট বিষয়ক সেমিনারে ব্যারিস্টার ফুয়াদ ও শিশির মনিকে অতিথি করায় লাল কার্ড প্রদর্শন কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
রাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি: সংকটের পথে দেশ’ বিষয়ক সেমিনায়ের আয়োজন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী এই সেমিনার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান আলোচনা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির ও বিশেষ আলোচক হিসেবে ছিলেন ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেমিনার শুরুর প্রায় আধা-ঘন্টা আগে ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারে প্যারিস রোডে জরো হন। সেখানে তারা রাকসুর নিমন্ত্রিত দুইজন অতিথিকে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন। পরে ব্যারিস্টার ফুয়াদ ও শিশির মনি স্টেজের দিকে আসার সময় ভুয়া ভুয়া স্লোগান দেন। পরবর্তীতে তারা একটা প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন হয়ে পরিবহন মার্কেটে গিয়ে এই কর্মসূচি সমাপ্ত করেন।
এসময় তাদের হাতে ‘টাকলা ফুয়াদ বিজয় দিবস মানে না, টাকলা ফুয়াদ তরেও লাল কার্ড’,‘আবরারর রক্ত বৃথা যেতে দিবনা, আবরারের রক্তের সাথে আপোষ নাই’, ‘আবরারের আত্মহত্যা জুলাইয়ের প্রেরণা, খুনিদের আইনজীবী চাইনা চাইনা’, ‘খুনিদের পক্ষ নেওয়া লজ্জার, খুনিদের রক্ষা কারীদের ধিক্কার’ সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
লাল কার্ড প্রদর্শনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, ‘ফুটবল খেলায় যেমন নিয়ম ভঙ্গ করলে লাল কার্ড দেখানোর বিধান রয়েছে, তেমনি অন্যায় ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও প্রতীকীভাবে লাল কার্ড দেখানো হচ্ছে। শিশির মনির আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় হাইকোর্টে অবস্থান নিয়ে ইতোমধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। একই সঙ্গে ফুয়াদ ১৬ ডিসেম্বরকে বিজয় দিবস হিসেবে স্বীকার করেন না এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে আসছেন। এসব কারণে তাদের বিরুদ্ধে লাল কার্ড প্রদর্শন করা হয়েছে।’
ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়া বাঙালি জাতির জন্য লজ্জাজনক। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় দিবস দেশের মানুষের আত্মত্যাগের প্রতীক। এ দিবস ও স্বাধীনতার চেতনাকে অস্বীকার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে আমরা এই কর্মসূচি পালন করছি।