ডেস্ক নিউজ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সংক্রমণে এক মাসের মধ্যে ১০০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ৯০০-এর বেশি নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জরুরি ভিত্তিতে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের লক্ষ্য করে পরিচালিত এই কর্মসূচিতে জাতিসংঘ, ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং গ্যাভি সহায়তা দিচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্তদের একটি বড় অংশ এমন শিশু, যাদের বয়স ৯ মাসের কম—যারা নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসে না। ফলে তারা সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে।
প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত কয়েক বছরে টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন, সরবরাহ সংকট এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা এই পরিস্থিতির পেছনে ভূমিকা রেখেছে। এতে জনগোষ্ঠীর মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় ফাঁক তৈরি হয়েছে, যা হামের মতো অত্যন্ত সংক্রামক রোগের দ্রুত বিস্তার ঘটিয়েছে।
রাজধানী ঢাকার সংক্রামক রোগ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীর চাপ বেড়েছে। একটি ১০০ শয্যার হাসপাতালে চলতি বছরে রোগীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, শিশুদের জ্বর, ফুসকুড়ি বা শ্বাসকষ্টের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে এবং নিজ উদ্যোগে ওষুধ না দেওয়ার জন্য।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, টিকাদানের ঘাটতি পূরণ না করা গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তারা দ্রুত ও বিস্তৃত টিকাদান কর্মসূচি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।