মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের শান্ত-নিরিবিলি সুখছড়ি এলাকা আজ যেন এক অনন্য গর্বের আলোয় আলোকিত। এই জনপদের কৃতী সন্তান হাফেজ মোঃ শাহজাহান বিশ্বের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়-এ ভর্তির সুযোগ লাভ করেছেন—যা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং পুরো এলাকার জন্য এক বিরল সম্মান।
সুখছড়ি কামার দিঘির দক্ষিণ পাশে বারেক চৌধুরী পাড়ার রফিক ইঞ্জিনিয়ারের বাড়ির বাসিন্দা শাহজাহান একজন সাধারণ গ্রাম পুলিশের সন্তান। তাঁর পিতা জহির উদ্দিন আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের একজন গ্রাম পুলিশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সীমিত সামর্থ্য আর সাধারণ জীবনযাত্রার মধ্যেই গড়ে উঠেছে শাহজাহানের এই অসাধারণ সাফল্যের গল্প।
ছেলের এ অর্জনে আবেগাপ্লুত পিতা জহির উদ্দিন বলেন, “আমি একজন সাধারণ গ্রাম পুলিশ। ছোটবেলা থেকেই ছেলেকে কুরআনের পথে রাখার চেষ্টা করেছি। আজ সে আল-আজহারে পড়ার সুযোগ পেয়েছে—এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি, সবার কাছে দোয়া চাই।”
এ বিষয়ে আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “জহির উদ্দিন পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত। তাঁর মতো একজন সাধারণ মানুষের সন্তান আজ আল-আজহারে পড়ার সুযোগ পেয়েছে—এটি আমাদের পুরো ইউনিয়নের জন্য গর্বের বিষয়। আমরা শাহজাহানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।”
জানা যায়, হাফেজ মোঃ শাহজাহান আল জামিয়াতুল ইসলামীয়া পটিয়া থেকে কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) সম্পন্ন করে এই বিরল সুযোগ অর্জন করেছেন। আল-আজহারের মতো বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের সুযোগ পাওয়া প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্যই বিশেষ সম্মানের।
এদিকে, শাহজাহানের এই কৃতিত্বে পুরো এলাকায় আনন্দের জোয়ার বইছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর সাফল্যে উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, এই অর্জন নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তারা আশা করেন, শাহজাহান অর্জিত জ্ঞান দিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে অবদান রাখবেন এবং নিজের মাটির মুখ আরও উজ্জ্বল করবেন।
সাধারণ পরিবারের এক তরুণের এই অসাধারণ সাফল্য যেন প্রমাণ করে—স্বপ্ন যদি থাকে অটুট, আর অধ্যবসায় যদি হয় পথচলার সঙ্গী, তবে সুখছড়ির মাটিতেও বিশ্বজয়ের গল্প লেখা সম্ভব।