মনির আহমদ আজাদ।।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
প্রকৃত সৎ ও ন্যায়পরায়ণ মানুষের অন্তরে ভয় থাকে না—তিনি কেবল ভয় করেন একমাত্র সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে। ইসলামী পরিভাষায় এই উচ্চতর মানসিক অবস্থাকেই বলা হয় ত্বাকওয়া। আর যার অন্তরে ত্বাকওয়ার অভাব, তার আচরণে প্রতিফলিত হয় ভিন্ন এক চরিত্র। এই নৈতিক বোধ ও দায়িত্বশীলতার বাস্তব প্রতিচ্ছবি যেন ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের জীবনযাত্রায়ই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
দেশের এক সংকটময় সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন শেষে তিনি আবার ফিরে এসেছেন তার মূল পরিচয়ে—শিক্ষকতায়। দায়িত্ব পালনকালে তার কিছু ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, বিশেষ করে হাজিদের উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত, সমাজের নানা স্তরে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।
সরকারি দায়িত্বের অধ্যায় শেষে তিনি এখন চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল-জামিয়াতুল আরাবিয়াতুল ইসলামিয়া (জিরি মাদ্রাসা)-তে নিয়মিত পাঠদান শুরু করেছেন। সপ্তাহে দুই দিন তিনি তিরমিজি শরীফ ও তাহেরিকে দারুল উলুম দেওবন্দ বিষয়ে পাঠ দেন। গত ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে বেলা পৌনে ১টা পর্যন্ত তিনি ধারাবাহিকভাবে দুটি বিষয়ে ক্লাস নেন।
প্রিয় শিক্ষককে আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরে পেয়ে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকমণ্ডলীর মাঝে যেন ফিরে এসেছে এক নতুন প্রাণচাঞ্চল্য। তাদের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে আনন্দ ও গর্বের ছাপ।
প্রতিষ্ঠানের মুহতামিম মাওলানা খুবাইব বিন তৈয়ব জানান, “ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন ২০২১ সাল থেকে আমাদের প্রতিষ্ঠানে মুহাদ্দিস হিসেবে যুক্ত আছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি নিয়মিত ক্লাস নিতে পারেননি। তবে দায়িত্ব শেষে আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। বর্তমানে তিনি নিয়মিতভাবে তিরমিজি শরীফ ও তাহেরিকে দারুল উলুম দেওবন্দ বিষয়ে পাঠদান করছেন।”
নিজ অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, “শিক্ষকতাই আমার মূল পরিচয়। জীবনের এই পর্যায়ে এসে আবার শিক্ষার্থীদের মাঝে ফিরে আসতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত। বাকি সময়টুকু শিক্ষার সঙ্গেই কাটাতে চাই।”
তিনি আরও জানান, অতীতে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি বিভিন্ন মসজিদে খতিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে নিজের ব্যস্ততা কিছুটা কমিয়ে এনে তিনি আবার মনোনিবেশ করেছেন জ্ঞান বিতরণের পবিত্র দায়িত্বে।
একজন দায়িত্বশীল নাগরিক, একজন আদর্শ শিক্ষক এবং ত্বাকওয়ার আলোয় উদ্ভাসিত একজন মানুষ হিসেবে তার এই প্রত্যাবর্তন যেন সমাজের জন্য এক নীরব বার্তা—ক্ষমতা নয়, প্রকৃত মর্যাদা নিহিত থাকে জ্ঞান ও নৈতিকতার সেবায়।