ডেস্ক নিউজ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চের মাঝামাঝি থেকে মে মাসের শুরু পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন শিশুর মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ২৪৪ জন—যাদের অধিকাংশই শিশু।
এই সময়ে দেশে হামের সংক্রমণ দ্রুত বেড়ে ৫৬টির বেশি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে গেছে, আর সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ৪০ হাজারেরও বেশি।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আক্রান্তদের বড় অংশই অতি অল্পবয়সী শিশু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হামে আক্রান্তদের প্রায় ৬৯ শতাংশই দুই বছরের কম বয়সী এবং উল্লেখযোগ্য অংশ ৯ মাসেরও কম বয়সী।
যদিও জেলাভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ মৃত্যুর তালিকা প্রকাশ হয়নি, তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে যে চিত্র উঠে এসেছে তা হলো—
ঢাকা বিভাগ: সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা,বরিশাল বিভাগ (বরগুনা): শিশু মৃত্যুর একাধিক ঘটনা, রাজশাহী বিভাগ: হাসপাতালভিত্তিক মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, খুলনা ও অন্যান্য বিভাগ: ছড়িয়েছে সংক্রমণ, তবে তুলনামূলক কম শনাক্ত।
এছাড়া রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অন্তত ১২ শিশুর মৃত্যুর তথ্যও পাওয়া গেছে, যা আঞ্চলিকভাবে পরিস্থিতির গুরুতরতা তুলে ধরে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক এই প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ হলো টিকাদানের ঘাটতি। কোভিড-পরবর্তী সময়ে অনেক শিশু নিয়মিত টিকার বাইরে থাকায় তাদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে গেছে।
হামের উপসর্গ নিয়ে হাজার হাজার শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে প্রায় ২৭ হাজারের বেশি শিশু।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য জরুরি গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, দ্রুত টিকাদান ও নজরদারি জোরদার না করা হলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।