মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যেন চিরকালের না পাওয়ার দল। অধিকারের প্রশ্ন উঠলেই তারা পিছিয়ে পড়েন, সুবিধার বেলায় তারা উপেক্ষিত। সর্বশেষ রমজান মাসের ছুটি ও ঈদ-পরবর্তী ছুটি কর্তনের ঘটনা আবারও সেই পুরনো বৈষম্যের চিত্রটিকে সামনে এনে দিয়েছে।
গত রমজান মাসে মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যথারীতি ছুটি ঘোষণা করে বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটি নিয়ে দেখা দেয় নানা জটিলতা ও প্রশ্ন। দীর্ঘ টালবাহানার পর এক পর্যায়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ছুটি ঘোষণা করলেও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি নিয়ে কোনো প্রশ্ন না তুলে শুধু প্রাথমিকের ছুটি কিস্তিতে কর্তন করা হয়।
শুক্রবার ও শনিবার সরকার ঘোষিত সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও ঈদুল ফিতরের পর থেকে ঈদুল আজহার আগ পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি শনিবার ক্লাস নিতে বাধ্য করা হয় — রমজানের ছুটি পুষিয়ে দেওয়ার নামে। অথচ একই কারণে মাধ্যমিক বা কলেজ পর্যায়ে এমন কোনো ছুটি কর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এই বৈষম্য শিক্ষক মহলে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়।
ঈদুল আজহার ছুটি ঘোষণার ক্ষেত্রেও একই বিশৃঙ্খলার পুনরাবৃত্তি ঘটে। ছুটির আগের দিন বৃহস্পতিবার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ক্লাস করে বাড়ি ফেরেন এই ধারণায় যে শনিবার ও রবিবারও ক্লাস করতে হবে। কিন্তু পরদিন শনিবার সকালে, অনেক শিক্ষক বিদ্যালয়ের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, এমন মুহূর্তে হঠাৎ বার্তা আসে — অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো প্রাথমিক বিদ্যালয়ও শনিবার থেকে বন্ধ থাকবে।
এই অপ্রস্তুত পরিস্থিতিতে শিক্ষকরা আক্ষেপ করেন — আগে জানলে অন্তত বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের ছুটির মধ্যে পড়ার জন্য বাড়ির কাজ ও পাঠ্যবইয়ের নির্দিষ্ট অংশ ধরিয়ে দেওয়া যেত। শিক্ষার্থীরাও মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে পারত। কিন্তু শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তে সে সুযোগও হাতছাড়া হয়।
শিক্ষকদের প্রশ্ন — একই দেশে, একই সরকারের অধীনে পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এই বৈষম্য কেন? মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা যদি একই ছুটি ভোগ করতে পারেন বিনা প্রশ্নে, তাহলে প্রাথমিকের শিক্ষকদের বারবার কেন এই বঞ্চনা সহ্য করতে হবে?
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে শিক্ষকদের দাবি — ছুটির নীতিমালা প্রণয়নে সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সমান নীতি অনুসরণ করতে হবে এবং যেকোনো সিদ্ধান্ত যথেষ্ট আগে জানাতে হবে — যাতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ই প্রস্তুতি নিতে পারেন।