মোঃ কামরুল ইসলাম,রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
অত্যন্ত আনন্দঘন ও জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) দিবস উদ্যাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য আলোচনা সভা, রিসার্চ ইনোভেশন সেন্টার (আরআইসি)-এর শুভ উদ্বোধন এবং দুর্গম অঞ্চলের বন্যাদুর্গতদের মাঝে বিশেষ ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির আসন অলঙ্কৃত করেন রাবিপ্রবি’র মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। সকলের এই ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এক উৎসবমুখর মিলনমেলায় পরিণত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী শিক্ষকবৃন্দের আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও প্রবন্ধ প্রকাশের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাঁদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। বিশ্বমানের শিক্ষা প্রসারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “শিক্ষকবৃন্দের উন্নত বিশ্বের লব্ধ জ্ঞান এবং সুদূরপ্রসারী গবেষণা কাজের মেলবন্ধনেই এই বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষা ও প্রযুক্তির এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। আমাদের লক্ষ্য হবে রাবিপ্রবি-কে একটি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।” অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করেন।
কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তানজিম মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট (টিএইচএম) বিভাগের প্রভাষক জনাব ফাহিম হোসেনের অত্যন্ত সাবলীল সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট শিক্ষক ও প্রতিনিধিবৃন্দ। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে সভার কাজ শুরু হয়। ধর্মগ্রন্থ পাঠে অংশ নেন এফএমআরটি বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ সাওবান, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী চৈতী রুদ্র ও নার্সি চাকমা এবং টিএইচএম বিভাগের শিক্ষার্থী রুথিনা বেসরা।সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন রাবিপ্রবি’র ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জনাব মোহাম্মদ জুনাইদ কবির, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন, সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন ড. তৌহিদুল আলম, ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. নিখিল চাকমা এবং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান জনাব মোহনা বিশ্বাস।
এছাড়াও শিক্ষকদের পক্ষে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি জনাব সপ্তর্ষি চাকমা, কর্মকর্তাদের পক্ষে এস্টেট দপ্তরের উপ-রেজিস্ট্রার ও অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জনাব সেতু চাকমা, কর্মচারীদের পক্ষে হিসাব দপ্তরের হিসাবরক্ষক জনাব আসমা আক্তার এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ নাসিরুদ্দীন অর্ণব বক্তব্য প্রদান করেন। সভার সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি ড. তানজিম মাহমুদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অগ্রগতি কামনা করে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
আলোচনা সভা শেষে মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর মহোদয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন মাইলফলক রিসার্চ ইনোভেশন সেন্টার (আরআইসি)-এর ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এই সেন্টারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনী আইডিয়া বাস্তবায়নে একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।উদ্বোধন শেষে উপাচার্য মহোদয় রাবিপ্রবি’র সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এক মানবিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। অতি সম্প্রতি দেশের রাঙ্গামাটি অঞ্চলের দুর্গম বাঘাইছড়ি এবং বিলাইছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত বিশেষ ত্রাণ উপ-কমিটি এবং শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত স্বেচ্ছাসেবী কমিটির নিকট আনুষ্ঠানিক ত্রাণ সামগ্রী হস্তান্তর করেন। অতি দ্রুত এই ত্রাণ দুর্গম এলাকার মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, পার্বত্য অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার আলোকবর্তিকা ছড়িয়ে দিতে ‘রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১’ (২০০১ সালের ১৫ জুলাই আইন নং ৩৯) দ্বারা এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ২০১৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি একনেক সভায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। ২০১৫ সালের ৯ নভেম্বর ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত শ্রেণী কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে এই স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক পথচলা শুরু হয়।